ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সালেক খোকনের গবেষণাগ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে অবিনাশী ঘটনামালা’ প্রকাশিত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি

লেখক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক সালেক খোকনের নতুন গবেষণাগ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে অবিনাশী ঘটনামালা’ প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছোট ছোট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য ও প্রামাণ্য তথ্যের আলোকে সরল গদ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে এই গ্রন্থে।

লেখক সালেক খোকন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের ইতিহাস ও শেকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একাত্তরের মুক্তির লড়াইয়ে অসংখ্য মানুষের দুঃসাহসী অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। গ্রন্থের লেখাগুলো পাঠককে ইতিহাসের গভীরে নিয়ে যাবে এবং কত কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে, তা নতুন করে উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।

গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা কথাপ্রকাশ। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার জসিম উদ্দিন বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সালেক খোকন মুক্তিযুদ্ধের বিস্মৃত ও অন্তরালে থাকা ইতিহাস তুলে ধরার কাজে নিরলসভাবে যুক্ত রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, বেদনা ও সাহসের নির্মোহ ইতিহাস বিনির্মাণে তার যে অঙ্গীকার, তারই ধারাবাহিকতায় এ গ্রন্থের প্রকাশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বইটি বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করবে।

দীর্ঘদিন ধরে একক প্রচেষ্টায় তৃণমূল পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় যুক্ত সালেক খোকনের প্রকাশিত মোট গবেষণাগ্রন্থের সংখ্যা ৩৭টি, এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ ১৭টি। তার রচিত ‘যুদ্ধদিনের গদ্য ও প্রামাণ্য’ গ্রন্থটি ২০১৫ সালে ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ লাভ করে এবং ‘৭১-এর আকরগ্রন্থ’ অর্জন করে ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০২১’।

নতুন গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে অবিনাশী ঘটনামালা’–এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। ২৪০ পৃষ্ঠার বইটির মুদ্রিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা।

আরটিভি/আরএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৌমাছির মতো মানুষ
রফিকের জীবনটা খুবই সাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। এখন একটা ছোট এনজিওতে চাকরি করে। অফিসে তার দায়িত্ব  ‘কমিউনিটি হেলথ প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর’। নাম শুনতে বড়, কাজটা ছোট। গ্রামে গিয়ে মানুষকে বুঝানো-নোংরা পানি খেও না। বাচ্চার টিকা দাও। একটু সাবান-পানি ব্যবহার করো। রফিকের সহকর্মীরা বলে, তুই অনেক বেশি ভাবিসরে। এই দেশে মানুষকে পরিষ্কার থাকতে শেখানো মানে নদী শুকিয়ে ফুল চাষ করার মতো! রফিক শুধু হাসে। সে ভাবে, হয়তো একদিন একটা ফুল ফুটবেই। সেই ফুলটাই একদিন ফুটেছিল। মেহরীন নামের এক মেয়ে। প্রথম দেখা এক কনফারেন্সে। ঢাকার এক হোটেলে ‘রুরাল হেলথ ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে সেমিনার ছিল। মেহরীন সেখানে গবেষক হিসেবে এসেছিল। সাদা শাড়ি। নীল বর্ডার, চুল বাঁধা, একটা সাধারণ খোঁপা। রফিক তাকিয়েছিল একবার। তারপর আবার তাকিয়েছিল। তারপর আর চোখ সরাতে পারেনি। সেমিনারের পরে সে এগিয়ে গিয়ে বলেছিল, আপনি কি মেহরীন রহমান? হ্যাঁ (হালকা হাসি)। আমি কি আপনার চেনা কেউ? না, তবে আপনি চাইলে চেনা হতে পারি। আহা! এই ডায়লগটা পুরোনো! রফিক লজ্জা পেয়েছিল। কিন্তু সেই হাসিটা সারাদিন থেকে গিয়েছিল মনে।  দুই সপ্তাহ পর অফিস থেকে রফিককে পাঠানো হলো মানিকগঞ্জের এক গ্রামে। পানি দূষণ নিয়ে গবেষণা করতে। সেখানে গিয়ে সে অবাক হয়ে দেখল, ওই একই প্রকল্পে কাজ করছে মেহরীন রহমান। মেহরীন একটু অবাক হয়ে বলেছিল, আবার দেখা হলো! আপনি কি সব জায়গায় হাজির থাকেন নাকি?  না, আমি কেবল ভাগ্যবান। ভাগ্যবান? আপনি তো আছেন। মেহরীন হেসেছিল। তখন সূর্য ডুবছিল। পাখিরা ফিরছিল। দুইজনের মধ্যে একটা নিরবতা নেমে এলো। কিন্তু সেটা অস্বস্তিকর নয় বরং মিষ্টি, অনির্বচনীয়। রফিকের মধ্যে একটা অদ্ভুত শান্ত ভাব ছিল। সে কখনও রাগ করত না। কখনও গালাগালি করত না। গ্রামের বাচ্চাদের সে গল্প শোনাতো- ‘মৌমাছি ফুলে বসে, কিন্তু ফুলকে কষ্ট দেয় না।’ শিশুরা মুগ্ধ হয়ে শুনত।  মেহরীন একদিন বলল, আপনি কি কখনও রাগ করেন না? করি, তবে নিজের ওপর। অন্যের ওপর না? না, মানুষ তো ভুল করবেই। আমি ঠিক করি না, ফুলে বসা মৌমাছি যেমন ফুলকে আঘাত করে না। মেহরীন চুপ করে ছিল। সেই রাতে তার ঘুম আসেনি। সে নিজের ডায়েরিতে লিখেছিল, রফিক নামের মানুষটা হয়তো অন্য কোনো গ্রহ থেকে এসেছে। দিন কেটে যাচ্ছিল। একসাথে মাঠে কাজ। সারাদিন গরম। ঘামে ভেজা শরীর। তারপর সন্ধ্যায় পুকুরপাড়ে বসে চা খাওয়া। মেহরীন লক্ষ্য করত, রফিক চায়ের কাপ ফেলে দেয় না, বরং ভালোভাবে ধুয়ে রাখে। একদিন সে জানতে চাইল, আপনি এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কেন? রফিক হাসল, পৃথিবীটা কারও না, তাই নোংরা করার অধিকারও আমাদের না। এই এক বাক্যেই মেহরীন যেন হার মানল।  সে ভাবল, এই মানুষটার মধ্যে একটা অদ্ভুত পবিত্রতা আছে, যা তাকে প্রতিদিন আরও কাছাকাছি টানে। এক রাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ছিল। বিদ্যুৎ নেই। মেহরীন একা বসে জানালার ধারে। রফিক দরজায় নক করল। মেহরীন, ঠিক আছো? হ্যাঁ, কিন্তু ভয় লাগছে একটু। ভয় পেও না, আমি বাইরে আছি। বৃষ্টির শব্দে আরেকটা নীরবতা তৈরি হলো। বাইরে শুধু রফিকের কণ্ঠ, বৃষ্টি হলে পৃথিবী ধুয়ে যায়। কিন্তু আমাদের মনও কি ধুয়ে যায়? মেহরীন বলল, মন ধোয়া যায় না, মন শুধু কারও জন্য ভিজে যায়। রফিক তখন হাসল। সেই হাসিতে মেহরীনের বুকের ভেতর অচেনা কাঁপুনি। কাজ শেষ হওয়ার পর তাদের ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা। শেষ দিনটিতে রফিক তাকে বলল, আমি হয়তো তোমাকে আর দেখব না। কেন? আমি অন্য জেলায় যাচ্ছি। কিন্তু যোগাযোগ রাখবে তো? রাখব, যদি তুমি চাও। আমি চাই। তারা অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল।  বিদায় মুহূর্তে মেহরীন বলেছিল, তুমি ঠিক মৌমাছির মতো, রফিক। যা পাও, পবিত্র করে রাখো; যা দাও, তাও পবিত্র। আমি চাইতাম তোমার মতো হতে। রফিক শুধু বলেছিল, তুমি তো আমার ফুল। এরপর ছয় মাস কেটে যায়। রফিকের কোনো খবর নেই। ফোন বন্ধ। মেহরীন দিন কাটায় কাজের ভেতর, কিন্তু সবকিছুর মাঝেই ফাঁকা একটা জায়গা রয়ে যায়।  একদিন ডাক আসে মানিকগঞ্জ থেকে— আপনার সহকর্মী রফিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। মেহরীন সব ছেড়ে ছুটে যায়। গ্রামীণ হাসপাতালের ছোট্ট বিছানায় রফিক শুয়ে আছে। মুখে ব্যান্ডেজ, হাত ভাঙা। তুমি এলে? আমি না এলে কে আসবে? আমি ভেবেছিলাম তুমি ব্যস্ত। ভালোবাসার মানুষ ব্যস্ত হয় না। রফিক মৃদু হাসল। তার চোখে পানি, কিন্তু ঠোঁটে শান্তি। সেই রাতে মেহরীন বসে ছিল রফিকের পাশে। রফিক বলল, জানো, আমি ভেবেছিলাম, আমি আর বাঁচব না। এখন তো বেঁচে আছো। হ্যাঁ, কারণ তুমি এলে। নাটক করো না, ঘুমাও। রফিক চোখ বন্ধ করে বলল, মৌমাছি যদি ফুলের কাছে মধু না পায়, সে অন্য ফুলে যায়। কিন্তু আমি পারি না। আমি শুধু তোমার কাছেই উড়তে পারি। মেহরীন তখন কিছু বলল না। তার চোখ ভিজে উঠল। রফিক সুস্থ হয়ে ঢাকায় ফিরল। তাদের সম্পর্ক তখন অন্যরকম এক পরিণতির দিকে। তারা প্রতিদিন কথা বলত, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করত। হঠাৎ কখনো কখনো দেখা করত টিএসসিতে।  একদিন মেহরীন বলল, তুমি কি কখনও ভেবেছ, আমাদের সম্পর্কটা কী? ভেবেছি। ফলাফল? আমি তোমাকে ভালোবাসি। খুব সোজা করে বললে। ভালোবাসা জটিল করলে সেটা রাজনীতি হয়ে যায়। মেহরীন চুপ করল। তার মনে হলো, পৃথিবীতে এই মানুষটার মতো সহজ কিছু আর নেই। সময় কেটে যায়।  একদিন মেহরীন জানতে পারে, তার বাবা তার জন্য একজন প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছেন। ছেলেটা ধনী, পরিশীলিত, কিন্তু মেহরীনের মনে ঝড় ওঠে। সে ফোন করে রফিককে। আমি কি তোমার জীবনে কিছু? সবকিছু। তাহলে বিয়ে আটকাবে? আটকাবো না। কেন? মৌমাছি ফুলে জোর করে বসে না। ফুল নিজে তাকে ডাকলে তবেই যায়। মেহরীনের গলা কাঁপছিল, তুমি পাগল, রফিক। হ্যাঁ, তোমার জন্যই। বিয়ের আগের দিন মেহরীন আর থাকতে পারল না। রাত তিনটায় সে রফিকের বাসায় চলে গেল। ঢাকা শহর নিস্তব্ধ। রফিক দরজা খুলে চমকে গেল, তুমি? হ্যাঁ, আমি পালিয়ে এসেছি। পাগল নাকি? হ্যাঁ, তোমার মতোই।  দুজন কিছুক্ষণ নীরব। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, জানালায় টুপটাপ শব্দ। রফিক বলল, বৃষ্টি মানে পরিশুদ্ধতা, তাই না? মেহরীন বলল, হ্যাঁ, আজ থেকে আমি তোমার পাশে থাকতে চাই, চিরকাল। রফিকের চোখে পানি এসে গেল। সে মৃদু কণ্ঠে বলল, মৌমাছি ফুলের মধু নেয়, কিন্তু ফুলকে আঘাত দেয় না। আমি তোমার জীবনে থাকব, কিন্তু কখনো তোমাকে কষ্ট দেব না। তারা একে অপরের হাত ধরল। পরদিন সকালে খবর ছড়াল মেহরীন বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন, সমাজ হাসল, আত্মীয়রা নিন্দা করল। কিন্তু রফিক সবকিছু নীরবে সামলাল। মেহরীনের বাবার কাছে গিয়ে বলল, আমি জানি, আপনি রাগ করেছেন। তুমি আমার মেয়েকে বিপথে এনেছ! না, আমি শুধু তার মনের পথটা দেখিয়েছি। বৃদ্ধ মানুষটা চুপ করে ছিল। রফিক বেরিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি বললেন, তুমি কি তাকে ভালোবাসো? হ্যাঁ, কিন্তু আমি তাকে দখল করতে চাই না, কেবল পাশে থাকতে চাই। বৃদ্ধ মানুষটি মাথা নিচু করে বললেন, যাও, ওকে সুখী করো। এক বছর পরে রফিক আর মেহরীন বিয়ে করল। তাদের ঘর ছিল ছোট্ট, কিন্তু পরিপূর্ণ আলোয় ভরা। রফিক প্রতিদিন সকালে বারান্দায় বসে মেহরীনের জন্য এক কাপ চা বানাতো। আর মেহরীন প্রতিদিন বলত, তুমি ঠিক মৌমাছির মতো। রফিক হাসত, আর তুমি আমার ফুল। তবে জীবন কখনও পুরোপুরি সুখের হয় না। একদিন রফিকের ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। চিকিৎসা চলে, কিন্তু অবস্থার অবনতি হয়। হাসপাতালের বিছানায় রফিকের চোখে মৃদু হাসি। মেহরীন কান্নায় ভেঙে পড়েছে। রফিক বলল, কেঁদো না, মেহরীন। তুমি ছাড়া আমি বাঁচব না। বাঁচবে, কারণ তুমি আলো। একটু থেমে বলল, মৌমাছি ফুলের জীবন বাড়ায়, নিজে না থেকেও। আমি চলে গেলেও, তোমার ভিতরে আমার মধু রয়ে যাবে। মেহরীন তখন ফুঁপিয়ে উঠল।  রফিক মারা যায় এক ভোরবেলায়, পাখির ডাকের আগে। তার হাতের মুঠোয় ছিল এক টুকরো কাগজ। সেখানে লেখা ছিল, দুনিয়ায় মৌমাছির মতো হও, যা খাও তা পবিত্র, যা দাও তা পবিত্র, আর কারও কিছু নষ্ট কোরো না। মেহরীন সেই কাগজটা প্রতিদিন পড়ে। বৃষ্টির দিনে, রোদেলা দুপুরে, একাকী রাতেও। দশ বছর পর— মেহরীন এখন মানিকগঞ্জে একটা ছোট স্কুল চালায়। তার ছাত্ররা ফুলে বসা মৌমাছির ছবি আঁকে। কেউ একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, আপা, আপনি কেন মৌমাছিকে এত ভালোবাসেন? মেহরীন হেসেছিল। তার চোখে পানি চিকচিক করছিল। সে বলেছিল, কারণ মৌমাছির মতো মানুষ একবার জীবনে পেলে, পুরো পৃথিবীটাই মধুময় হয়ে যায়। আরটিভি/একে
মৌমাছির মতো মানুষ
বাবুই’র ৩০০ শব্দের গল্প প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেলেন তরুণ ৫ লেখক
বাবুই আয়োজিত ‘৩০০ শব্দের গল্পে ফুটে উঠুক আপনার মনের ভাবনা’ প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকালে প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত সেরা পাঁচ গল্প ও লেখকের নাম ঘোষণা করে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪২৭টি গল্প জমা পড়ে। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, সেরা গল্পগুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সাব্বির আহমাদের ‘সাদিয়া বিষয়ক অণুগল্প’। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মৃন্ময় মাসুদের গল্প ‘হ্যাবলাকান্তের ভালোবাসা’। তৃতীয় হয়েছে সাবিকুন নাহার অন্তুর ‘নিশিপদ্ম’, চতুর্থ স্থানে রয়েছে আব্দুস সাত্তার সুমনের ‘চিঠির গন্ধ’ এবং পঞ্চম হয়েছে কলকাতার আত্রেয়ী আঢ্য রচিত ‘ছায়াসঙ্গী’। সেরা পাঁচ লেখককে পুরস্কার হিসেবে বাবুই ও সংযোগ থেকে প্রকাশিত প্রতিজন ৫ হাজার টাকার বই দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতা আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান বাবুইয়ের প্রকাশক কাদের বাবু বলেন, বিচারকমণ্ডলী ৪২৭টি গল্পের প্রতিটিই মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন। তারা অনেক পরিশ্রম করে সেরা পাঁচটি গল্প বাছাই করেছেন। আরও অনেক গল্প পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিল, তবে নিয়ম না মানায় সেগুলো বাদ দিতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন এবং মালয়েশিয়ার লেখকরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। সেরা পাঁচের পাশাপাশি আরও পাঁচটি গল্পকে বিশেষ পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এগুলো হলো— ‘সাসপিশিয়াস’ (সৈয়দ ইবনুজ্জামান), ‘অন্ধকার’ (মিতুল সাইফ), ‘পারফিউম’ (নূরন্নবী খান জুয়েল), ‘ঝরাপাতা’ (হাসান মেহেদী) এবং ‘শেষ ট্রেন’ (আফরিণ চৌধুরী)। বিশেষ পুরস্কার হিসেবে তারা প্রতিজন পাবেন ১ হাজার টাকার বই। আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, খুব দ্রুতই পুরস্কারপ্রাপ্ত সবাইকে তাদের বই পৌঁছে দেওয়া হবে। আরটিভি/একে
বাবুই’র ৩০০ শব্দের গল্প প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেলেন তরুণ ৫ লেখক
বুকার পুরস্কার জিতলেন হাঙ্গেরীয়-ব্রিটিশ লেখক ডেভিড সালয়
চলতি বছর সাহিত্যের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার বুকার প্রাইজ জিতলেন হাঙ্গেরিয়ান-ব্রিটিশ লেখক ডেভিড স্যালায়। সোমবার (১০ নভেম্বর) লন্ডনে ৫১ বছর বয়সী এই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। ইংরেজি ভাষায় রচিত ফ্লেশ উপন্যাসের জন্য এই খেতাবটি জয় করেন তিনি। ফ্লেশ উপন্যাসে নির্যাতিত হাঙ্গেরিয়ান এক অভিবাসীর গল্প তুলে ধরেছেন স্যালায়। যিনি বিদেশে ভাগ্য গড়েও শেষ পর্যন্ত সবকিছু হারান। হৃদয়বিদারক কাহিনীর কারণে বইটি ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। আরও পড়ুন সাহিত্যে নোবেল পেলেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসজলো ক্রাসনাহোরকাই এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতীয় ঔপন্যাসিক কিরণ দেসাই এবং ব্রিটিশ লেখক অ্যান্ড্রু মিলারসহ আরও পাঁচজনকে হারিয়ে বুকার প্রাইজ জেতেন তিনি। পুরস্কার গ্রহণকালে স্যালায় তার উপন্যাসকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিচারকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ১৫৩টি উপন্যাসের মধ্যে নির্বাচিত ফ্লেশ-এর বিচারক প্যানেলে ছিলেন আইরিশ লেখক রডি ডয়েল ও অভিনেত্রী সারাহ জেসিকা পার্কার। ডয়েল উপন্যাসটি সম্পর্কে বলেছেন, এটি অদ্ভুত জীবন্ত ও অন্ধকারময়, কিন্তু পড়তে বেশ আনন্দদায়ক। সংগঠকরা জানিয়েছেন, ফ্লেশ হলো শ্রেণি, ক্ষমতা, ঘনিষ্ঠতা, অভিবাসন এবং পুরুষত্ব নিয়ে একটি মননশীল লেখা। এটি একজন মানুষের জীবন এবং আজীবন অনুরণিত হওয়া গঠনমূলক অভিজ্ঞতার এক আকর্ষণীয় প্রতিকৃতি। উল্লেখ্য, এর আগে সালমান রুশদি, অরুন্ধতী রায় এবং মার্গারেট অ্যাটউডের মতো লেখকেরা বুকার পুরস্কার জিতেছেন। আরটিভি/এআর  
বুকার পুরস্কার জিতলেন হাঙ্গেরীয়-ব্রিটিশ লেখক  ডেভিড সালয়
মারা গেছেন চিত্রশিল্পী মতলুব আলী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ডিন, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, শিক্ষাবিদ, শিল্পসমালোচক ও গণসংগীতকার অধ্যাপক মতলুব আলী (বাবলু) আর নেই। সোমবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী, গীটারশিল্পী রেহানা মতলুব। তিনি জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অধ্যাপক মতলুব আলী ছিলেন বাংলাদেশের চারুকলা আন্দোলনের অন্যতম সহযোদ্ধা, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উপদেষ্টা ও এক সময়ের সঙ্গীত শিক্ষক। তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার উদয়ক্ষণে রচিত ‘লাঞ্ছিত নিপীড়িত জনতার জয়’ গানের স্রষ্টা হিসেবেও পরিচিত। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে চারুকলা অঙ্গন ও সংস্কৃতি মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরও পড়ুন রাশমিকা মন্দানা অবশেষে দেখালেন বাগদানের আংটি ১৯৪৬ সালে রংপুরের মুন্সীপাড়ায় (মাদরাসা রোড) জন্মগ্রহণ করেন মতলুব আলী। রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে মাধ্যমিক এবং কারমাইকেল কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে একই বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করে তিনি চারুকলা অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আরটিভি/কেআই
মারা গেছেন চিত্রশিল্পী মতলুব আলী
শামসুর রাহমান: আধুনিক বাংলা কবিতার নাগরিক স্বর ও জাতীয় চেতনার প্রতীক
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান তার দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে (১৯২৯-২০০৬) এক স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, গভীর নাগরিক দর্শন এবং প্রতিবাদী লেখকসত্তার জন্ম দিয়েছেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্থে বাংলা কবিতাকে তিনি শুধু আধুনিকতার পথে চালিত করেননি, বরং জনজীবনের সঙ্গে  কবিতার এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। পুরান ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণে তার কবিতায় নগর জীবনের ক্লান্তি, হতাশা ও সৌন্দর্যের নিবিড় চিত্রায়ন ঘটেছে, যার  জন্য তিনি 'নাগরিক কবি' এবং বাংলাদেশের ‘অঘোষিত জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার কবিতা ছিল একাধারে অন্তরঙ্গ, গীতিময় এবং একই সঙ্গে গণ-আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রতিবাদের শাণিত হাতিয়ার। শামসুর রাহমানের সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠা তিরিশের দশকের কবিদের পরে। তাকে জীবনানন্দ-পরবর্তী বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ (১৯৬০) প্রকাশের পর থেকেই সচেতন পাঠক মহলে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই কাব্যে তিনি নাগরিক জীবনের নিঃসঙ্গতা, ও অস্তিত্ববাদী চেতনাকে তুলে ধরেন। তার প্রথম  দিকের  কবিতায় প্রবল রোমান্টিকতা ও দার্শনিক উপলব্ধির সঙ্গে প্রতীক, চিত্রকল্প ও শব্দের ব্যঞ্জনাময় ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। এই সময়ে ‘রুপালি স্নান’-এর মতো কবিতা লিখে তিনি বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে এক নতুন আঙ্গিক ও ভাষা নিয়ে আসেন, যা পূর্ববঙ্গের পাঠকের নান্দনিক ক্ষুধাকে মেটায়। তার  কাব্য দর্শন  মূলত মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক।  তিনি মনে করতেন, কবির  কাজ  শুধু  নান্দনিকতা সৃষ্টি নয়, বরং সমাজের অন্যায়, অবিচার, ধর্মান্ধতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধেও এক তীব্র অবস্থান নেওয়া। এই দায়বদ্ধতা তাকে অন্তর্মুখী স্বভাবের  কবি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বারবার কলম ধরতে বাধ্য করেছে। শামসুর রাহমানের লেখকসত্তার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকটি হলো তার  তীব্র  স্বদেশপ্রেম ও সমকাল সচেতনতা, তাকে 'স্বাধীনতার কবি' উপাধি এনে দিয়েছে। তার কবিতা বাঙালির জাতীয় জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে ধারণ করেছে। ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত এলে তার কলম থেকে বেরিয়ে আসতো  মর্মস্পর্শী কবিতা; যেমন—রোমান হরফ প্রবর্তনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে লেখা 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', যা মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধের এক উজ্জ্বল দলিল। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দেখে তিনি রচনা করেন বিখ্যাত কবিতা 'আসাদের শার্ট' (যা জনগণের প্রতিবাদের প্রতীকী পতাকা হয়ে উঠেছিল: ‘আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা’। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় তিনি তার শ্রেষ্ঠ কিছু কবিতা রচনা করেন—‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’। এই কবিতাগুলো স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের দৃঢ় প্রতিচ্ছবি। এই সময়ের কবিতাগুলো নিয়েই পরে প্রকাশিত হয় ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থ, যা তাকে কবি হিসেবে চূড়ান্ত খ্যাতি এনে দেয়। স্বাধীনতার পরেও যখন দেশ সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে, তখনো শামসুর রাহমান  নীরব  থাকেননি। সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে  শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে তিনি লেখেন 'বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়'। এছাড়াও,  আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে বিদ্রুপ করে লেখা ‘হাতির শুঁড়’ এবং পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আশাহত হয়ে 'এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়' বা 'উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ'-এর মতো কবিতা রচনা করেছেন। এই সব কবিতায় তার অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা বারবার মূর্ত হয়েছে। শামসুর রাহমান মূলত একজন কবি হিসেবে পরিচিতি পেলেও পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন সফল সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সম্পাদক। তিনি দৈনিক মর্নিং নিউজ, দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা তাকে সমাজের গভীরে প্রবেশ  করতে এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টকে কবিতার বিষয়বস্তু করতে সাহায্য করেছে। সাংবাদিকতার কারণে তিনি ‘সিন্দবাদ’, ‘চক্ষুষ্মান’ বা ‘মজলুম আদিব’-এর মতো ছদ্মনামও ব্যবহার করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার কবিতায় মায়ের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রকৃতির প্রতি অনুরাগও উঠে এসেছে। জীবনের শেষ দিকে মৌলবাদী শক্তির টার্গেটে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার কলম থামাননি, যা তার প্রগতিশীল ও নির্ভীক লেখকসত্তার প্রমাণ। শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা কবিতার এক অক্ষয় নাম। তিনি কেবল কবিতায় শৈল্পিক উৎকর্ষতা আনেননি, বরং জাতীয় চেতনা ও ইতিহাসকে কবিতার চরণে ধারণ করেছেন। তার নাগরিক দর্শন, তীব্র দেশপ্রেম এবং প্রতিবাদী লেখকসত্তা তাকে বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসেবে চিরকাল প্রাসঙ্গিক করে রাখবে। তার কবিতা বাঙালির জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস, সংগ্রামের সাহস এবং স্বাধীনতার চেতনার এক চিরন্তন দলিল। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
শামসুর রাহমান: আধুনিক বাংলা কবিতার নাগরিক স্বর ও জাতীয় চেতনার প্রতীক
আরও পড়ুন
অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু
প্রাথমিকের শতভাগ পাঠ্যবইয়ের কাজ শেষ
‘জানুয়ারির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হবে’
বায়ুদূষণের তালিকায় আজ চতুর্থ ঢাকা, বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর