ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ এএম
চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান। ছবি:সংগৃহীত

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১০৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। চিত্রকর্মের ভিন্নধর্মী বিষয় ও ভাবনা, ব্যতিক্রমী জীবনযাপন, দেশে-বিদেশে বিপুল জনপ্রিয়তা—সব মিলিয়ে জীবদ্দশায়ই কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। তার শিল্পের বিষয় ও জীবনদর্শন তাকে সমকালীন শিল্পীদের চেয়ে আলাদা পরিচয় দিয়েছিল।

মৃত্যুর পর তার শিল্পকর্ম ও জীবনচর্চা স্বতন্ত্র শিল্প-আন্দোলনে আরো বিস্তৃত হয়েছে। আজ ১০ আগস্ট সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন। জন্মস্থান নড়াইল, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে বাংলার মাটি ও মানুষের গুণী এই শিল্পীকে স্মরণ করা হবে।

১৯২৩ সালের এই দিনে নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্ম নেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান।

শৈশবে পরিবারের মানুষ তাকে ‘লাল মিয়া’ নামে ডাকতেন। বাবা শেখ মেছের আলী ছিলেন রাজমিস্ত্রি। বাবার সঙ্গে নির্মাণকাজে যেতে যেতে ছোটবেলায় ভবন, মানুষের শরীর ও শ্রমের দৃশ্য আঁকার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পাঁচ বছর পড়াশোনার পর তিনি বাবার কাজে যুক্ত হন।

শিল্পশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা তাকে ১৯৩৮ সালে কলকাতায় নিয়ে যায়। স্থানীয় জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের আর্থিক সহায়তায় সেখানে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও শিল্পসমালোচক শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহযোগিতায় গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টে পড়ার সুযোগ পান। তবে তিন বছর পর সেই শিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই বেরিয়ে আসেন। শুরু হয় তার স্বাধীনভাবে শিল্পচর্চা ও ভ্রমণের জীবন।

১৯৪৬ সালে সিমলায় তার প্রথম প্রদর্শনী হয়।

আরও পড়ুন

দেশভাগের পর কিছুদিন কাশ্মীরে থেকেছেন। ১৯৫১ সালে যান করাচিতে এবং সেখানে একটি স্কুলে শিল্পশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এর আগে ১৯৫০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো ও বস্টনে তার কাজ প্রদর্শন করেন। পরে লন্ডনেও তার ছবি প্রদর্শিত হয়।

বিশ্বশিল্পের সেই বিস্তৃত পরিসর শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের মাটি থেকে দূরে সরাতে পারেনি। ১৯৫৩ সালে নড়াইলে ফিরে এসে চিত্রা নদীর তীরের জীবনকেই নিজের শিল্প ও অস্তিত্বের কেন্দ্র করে নেন। শিশুদের জন্য শিক্ষা ও সৃজনশীলতার পরিবেশ তৈরিতেও তিনি উদ্যোগী হন। শেষ জীবনে নড়াইলে ‘শিশুস্বর্গ’ ও ‘চারুপীঠ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার সেই স্বপ্নের কিছুটা বাস্তব রূপ পায়। সুলতানের কৃষক বাস্তবের অনুলিপি নয়। তার শিল্পে তা এক ধরনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার রূপ। তার বিশাল পেশিবহুল কৃষক-চরিত্রকে বাস্তবের ক্ষীণকায় কৃষক-জেলের বিপরীতে প্রতীকী এক স্বপ্নের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। একই সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের শোষণ, সহিংসতা ও বঞ্চনার বাস্তবতাও তার শিল্পে অনুপস্থিত নয়। এই ভাবনার শক্তিশালী উদাহরণ তার আঁকা ‘প্রথম বৃক্ষরোপণ’ (১৯৭৫) ও ‘চরদখল’ (১৯৭৬)। পরবর্তী সময়ের উল্লেখযোগ্য কাজ ‘ফসল কাটা’ (১৯৮৬) এবং ‘Fishing-3’ (১৯৯১) শিল্পকর্মে কৃষক, শ্রম, প্রকৃতি ও জীবনের সম্পর্ক ফিরে এসেছে।

১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার প্রথম একক প্রদর্শনী হয়। এর পরই দেশের শিল্পমহলে তার কাজ নতুন করে আলোচনায় আসে। স্বীকৃতিও আসে ধারাবাহিকভাবে-১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার। তবু খ্যাতি তাকে শহুরে শিল্পজগতের স্থায়ী বাসিন্দা করে তুলতে পারেনি। নড়াইল, চিত্রা নদী, শিশু, পশুপাখি এবং সাধারণ মানুষকে ঘিরেই থেকেছে তার জীবন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যে প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুন করে ফুটিয়ে তোলা এবং তার উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যময় লেখার আধুনিক সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করায় তাকে এ বছর নোবেল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সুইডিশ একাডেমি।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
নজরুলের দর্শন আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মহৌষধ: মার্কিন গবেষক
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও রাজনৈতিক দর্শনকে আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক খণ্ডন এবং কাঠামোগত নৈতিক অবক্ষয় নিরাময়ের এক চূড়ান্ত রূপরেখা হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রখ্যাত মার্কিন রাজনীতিবিজ্ঞানী ও ইমেরিটাস অধ্যাপক উইনস্টন ই. ল্যাংলি। দীর্ঘ তিন দশকের গভীর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তিনি নজরুলের এই বৈশ্বিক উপযোগিতা তুলে ধরেন।
নজরুলের দর্শন আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মহৌষধ: মার্কিন গবেষক
‘বাংলা একাডেমি ফন্ট’-এর উদ্বোধন
‘তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তুতকৃত ‘বাংলা একাডেমি ফন্ট’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
‘বাংলা একাডেমি ফন্ট’-এর উদ্বোধন
বাংলাদেশ নজরুল আবৃত্তি পরিষদ-এর নতুন কমিটি ঘোষণা
বাংলাদেশ নজরুল আবৃত্তি পরিষদ-এর নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি শায়লা আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আল জাবের নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৬–২০২৮ মেয়াদে এ নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ নজরুল আবৃত্তি পরিষদ-এর নতুন কমিটি ঘোষণা
নজরুলের অমর সৃষ্টি নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ 
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) মেলবোর্নের ড্যানডেনংয়ের ড্রাম থিয়েটারে ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ নামে একটি স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলবোর্ন সময় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা থেকে ০২:৩০টা পর্যন্ত) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৬০জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। মেলবোর্নপ্রবাসী নজরুলসংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কিউরেটর আদিলা নূরের পরিকল্পনা ও সৃজনশীল নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে বিদ্রোহী কবির সৃষ্টিশীলতা ও মানবিক দর্শনকে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল নজরুল রচিত নাটক ‘ঝিলিমিলি’ ও গীতিনাট্য ‘কাবেরী তীরে’-এর মঞ্চায়ন। অস্ট্রেলিয়ায় এই প্রথমবারের মতো নাটক দুটির মঞ্চায়ন হলো। এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালক আদিলা নূর বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা নজরুলের সৃষ্টিশীলতার বহুমাত্রিক দিকগুলো তুলে ধরতে চেয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তার সাম্য, ভালোবাসা ও মানবতার চিরন্তন বার্তা নতুন প্রজন্মকে আলোড়িত করবে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। শেকড় থেকে দূরে বসবাসের কারণে আমাদের জন্য সেটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয় ‘সুর ও বাণীর অর্ঘ্য’ দিয়ে। এতে নজরুলের নির্বাচিত চারটি গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। স্থানীয় নৃত্যশিল্পী ক্রিস ও অনিলের দ্বৈত নৃত্যের মধ্য দিয়ে পর্বটি শুরু হয়। এ পর্বের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নজরুলের কবিতা ‘অভিশাপ’ ও গান ‘শূন্য এ বুকে’-এর সমন্বয়ে একটি বিশেষ পরিবেশনা, যেখানে তন্বীপ্রিয়া আবৃত্তি এবং আদিলা নূর সংগীত পরিবেশন করেন। ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’ গানের মধ্য দিয়ে পর্বটির সমাপ্তি ঘটে। ২০২৩ সালের নজরুল পুরষ্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের ওপর মূল বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহী কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতা, সাম্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের বাইরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর দর্শন পৌঁছে দিতে ‘চিরন্তন’-এর মতো আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চস্থ হয় নজরুলের গীতিনাট্য ‘ঝিলিমিলি’। বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বৃন্দাবন দাসের নির্দেশনায় এতে অভিনয় করেন বৃন্দাবন দাস, শাহানাজ খুশী, দিব্য জ্যোতি ও সৌতি মালবিকা। মেলবোর্নপ্রবাসী সংগীতশিল্পী অর্পণ ও আদিলা নূরের সংগীত পরিবেশনা নাট্য পরিবেশনাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মঞ্চস্থ হয় ‘কাবেরী তীরে’ কাবেরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এক প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে রচিত নজরুলের গীতিনাট্য এটি। মেলবোর্নপ্রবাসী পূরবী চৌধুরীর নির্দেশনা ও কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত এ আয়োজনে অংশ নেন একদল নৃত্যশিল্পী। একইসাথে, নজরুলসংগীতশিল্পী অজয় রায় ও আদিলা নূর সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি স্মারক সংকলনও প্রকাশিত হয়। এতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের লেখা স্থান পায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী, শিক্ষক ও সংগঠক খায়রুল আনাম শাকিল; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারপারসন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ; সংগীতশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. লীনা তাপসী খান; ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার কলা ও সংস্কৃতি অনুষদের ডিন এবং ২০২৩ সালের নজরুল পুরষ্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন; আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ ও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ড. চঞ্চল খান; এবং ছায়ানটের শিক্ষক ও সংগীতশিল্পী শারমিন সাথী ময়না। অনুষ্ঠানটি দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালি ও স্ট্যান্ডিং ওভেশনের মাধ্যমে প্রশংসিত হয়। নজরুলের সৃষ্টির চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাঙালিদের সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সংযোগ আরও দৃঢ় করার বার্তাও উঠে আসে। আরটিভি/এসকে
নজরুলের অমর সৃষ্টি নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ 
আরও পড়ুন
নড়াইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকী পালন