
গাজীপুরের শ্রীপুরে বৃদ্ধা মা রাহিলা খাতুনকে (৯৬) নির্যাতন করে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাকে হত্যার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মেজ ভাই আব্দুল হাই। বৃদ্ধা টেপিরবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের স্ত্রী। এ ঘটনায় মায়ের মরদেহ দাফনেও বাধা দেন অভিযোগকারী ভাই।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বিকেলে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলো- বৃদ্ধার ছোট ছেলে ইলিয়াস (৫০) এবং তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৪৫)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পালিয়েছেন। মৃত্যুর একদিন পেরিয়ে গেলেও ওই বৃদ্ধার মরদেহ দাফন করতে পারেননি স্বজনেরা।
আব্দুল হাই লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তার মায়ের নামে অনেক সম্পত্তি রয়েছে। অভিযুক্ত ছোট ভাই ইলিয়াস ভাইবোনদের অগোচরে নিজের এবং স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের নামে ১৩-১৪ বিঘা জমি লিখে নিয়েছেন। ওই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন যা বর্তমানে গাজীপুর আদালতে চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার আমরা আদালতে গেলে কৌশলে তারা মাকে জোর করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে আবারও চার বিঘা জমি লিখে নেয়। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় মাকে শারীরিক নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত ভাই ও তার স্ত্রী তার বৃদ্ধ মাকে প্রায় সময়ই শারীরিক নির্যাতন করত। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা অন্যান্য ভাইবোন একাধিকবার মাকে ছোট ভাই ইলিয়াসের বাড়ি থেকে আনার চেষ্টা করেলেও তিনি মাকে আমাদের সঙ্গে দেয় নাই এবং মার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধা দেয়। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে আমাদেরকে মারপিটসহ জখমের হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। বিষয়টি স্থানীয়দেরকেও তারা অবগত করে।
বুধবার (২৯ মে) ছোট ভাই আমার মাকে বাড়ি থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে প্রাইভেকটারে তার বাড়িতে আসে। বাড়িতে প্রবেশ করার সময় তার বাড়ির সিকিউরিটি লাইট বন্ধ রাখে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে খবর পাই আমার মা মারা গেছে। পরে তিনি ও তার স্ত্রী দ্রুত মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করতে থাকে। আমার মায়ের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। সন্দেহ থাকায় এবং দাফনে বাধা দেওয়ায় পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
মায়ের মৃত্যুর জন্য ছোট ভাইকে অভিযুক্ত করে বৃদ্ধার মেজ ছেলে আব্দুল হাই বলেন, নির্যাতনের কারণেই মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মায়ের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকায় ছোট ভাই ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দাফন করতে দেবেন না বলেও জানান।
অভিযোগকারী আব্দুল হাইয়ের ছেলে ও বৃদ্ধার নাতি নূরু উদ্দিন বলেন, আমার চাচা বুধবার রাতে গাড়ির লাইট বন্ধ করে অসুস্থ দাদিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে অসুস্থ অবস্থায় দাদিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে আসার পরপরই দাদির জন্য মলম ও ওষুধ খোঁজাখুঁজি করেন চাচা। এর কিছুক্ষণ পর দাদি মারা যান। আমাদের ধারণা জমি লিখে না দেওয়ায় দাদিকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, আমরা শুনেছি তিনি মারা গেছেন। তবে কীভাবে মারা গেছেন তা বলতে পারব না। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন জমিসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।
অভিযুক্ত ইলিয়াস হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার গাড়িতে করে মাকে নিয়ে আমার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। পরে শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে জমির দলিল সম্পাদন করেছি। কিন্তু জোর করে জমি লিখে নিইনি। মা আমাকে ইচ্ছে করেই জমি লিখে দিয়েছেন। আমি মাকে কেন মারব। আমি সবসময় মায়ের সেবা করেছি। আজ যে আমার মা মারা যাবে, তা কি আমি জানতাম?
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে খেপে যান। তিনি কোনো তথ্য দিতে না চাইলে বিভিন্ন প্রশ্নের পর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বৃদ্ধার মরদেহ ময়নাতদন্তের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেন।




