
দেখতে স্মার্ট। নিজের সুঠাম দেহ ও সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে বেছে নেয় প্রতারণার পথ। মাদরাসা থেকে নামমাত্র পড়াশোনা করলেও কখনো র্যাব, কখনো পুলিশ, কখনোবা সিআইডি ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বড় অফিসার পরিচয় দিয়ে ভয়ানক প্রতারক হয়ে ওঠা আকলামের। সম্প্রতি ঢাকার নবাবগঞ্জে সিআইডি পরিচয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ এবং ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে টাকা দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রতারক আকলামকে।
শুক্রবার (৩১ মে) সকালে দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম নবাবগঞ্জ থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আকলাম ধামরাই উপজেলার সোয়াপুরের আনন্দনগর গ্রামের আব্দুল ওহাবে ছেলে। তিনি নবাবগঞ্জের আগলা ইউনিয়নের ছাতিয়া থাকতেন।
আলকাম নিজেকে কখনো কামরুল কখনো ডলার আবার কখনো আরিফ নামে পরিচয় দিতেন। একইসঙ্গে পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, কয়েকমাস আগে আলকাম নিজেকে সিআইডি পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে স্কুলের সামনে থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নেন। পরে তার মাকে কল দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ায় এ মুহূর্তে বিয়ে সম্ভব নয় জানালে আকলাম তাদের আশ্বস্ত করেন বয়স ১৮ বছর হলে বিয়ে করবেন। গত ৩১ মার্চ দুপুরে ওই ছাত্রী স্থানীয় গালিমপুর বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে তাকে অপহরণ করে ঢাকার একটি হোটেলে নিয়ে যায় আলকাম। সেখানে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং ভিডিও-ছবি কৌশলে মোবাইলে ধারণ করেন। এরপর মেয়েটিকে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় নিয়ে সেখানেও একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে ভিডিও করে রেখে একমাস পর মেয়েটিকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিছুদিন পর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ধারণকৃত অশ্লীল ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ওই প্রতারক। বিষয়টি জানতে পেরে আকলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ সময় আকলাম তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকার করায় আকলাম পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে থাকেন।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আকলামকে প্রধান আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করলে তদন্তে নামে পুলিশ। মামলার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি মাধ্যমে মিরপুর মডেল থানা এলাকায় আসামির ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের স্টিকার সংযুক্ত একটি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, পুলিশের পোশাক ও পুলিশের জুতা ও বেল্ট উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে পর্ণ ভিডিও তৈরি করার কথা স্বীকার করে। শুক্রবার রিমান্ড আবেদন করে গ্রেপ্তারকৃত আকলাম ওরফে ডলারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই স্কুল শিক্ষার্থীর মা জানান, শুধু তার মেয়ের সঙ্গে নয়, প্রতিবেশী এক মেয়েসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছে আকলাম। এ ধরনের অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ঘটনা আরও বাড়তে থাকবে।




