
চাঁদা না দেওয়ায় ময়মনসিংহে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার লোকজনের মারধরের শিকার হয়েছেন লাবু মিয়া লেবু নামে এক ঠিকাদার। এ সময় ফাঁকা গুলি ছুড়ে প্রাণে রক্ষা পান তিনি। লেবু এল আর কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী।
শুক্রবার (৩১ মে) বিকেলের এ ঘটনায় আহত অবস্থায় লাবু মিয়া ও তার গাড়ি চালক মো. উমরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউপি টু বোররচর সাড়ে চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজ পান লাবু মিয়া। ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রাস্তায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কুষ্টিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবুল সরকার ও তার লোকজন ঠিকাদার এবং তার চালককে মারধর করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ঠিকাদার।
ঠিকাদার লাবু মিয়া লেবু বলেন, ঈদের পরপরই রাস্তার কাজ শুরু করি। কুষ্টিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবুল সরকার তাকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে আলতাফ নামের একজনকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠান। এনিয়ে বাবুল সরকারের সাথে কাজকে বসার উদ্যোগ নেই; আলোচনার একপর্যায়ে সে আমার গালে চড়থাপ্পড় দিতে থাকে। পরে স্থানীয়রা এসে চালকসহ আমাকে বেধড়ক মারতে থাকলে প্রাণে বাঁচতে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ি। তারপর পুলিশ আমাদের নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
অভিযুক্ত কুষ্টিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবুল সরকার বলেন, নিম্নমানের খোয়া দিয়ে ঠিকাদার কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে কাজ বন্ধের কথা বলেন। এতেও ঠিকাদার কাজ অব্যাহত রাখায় স্থানীয়রা তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। এতে উত্তেজিত লোকজন তার গায়ে হাত তুলে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের ঘটনায় ঠিকাদার লাবু মিয়া একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আত্মরক্ষার জন্য তিনি দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়েন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




