ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

অনৈতিক প্রস্তাবে অতিষ্ঠ হয়ে রুমমেটকে ৭ টুকরা, পুলিশের লোমহর্ষক বর্ণনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
নিহত ওবায়দুল্লাহর রুমমেট শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এ ঘটনার রহস্যও উদ্‌ঘাটন করে ফেলেছে পুলিশ। ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পাওয়া যাওয়া মানবদেহের খণ্ড-বিখণ্ড অংশগুলো একই ব্যক্তির এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

তদন্তে জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার দেহ সাত টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তারই রুমমেট শাহীন। মূলত, অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করতেন।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু শাহীন জানায়, তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসীম উদ্‌দীন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়। কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান।

রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই তিনি বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওই রাতে একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড় ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহটি বিভিন্ন অংশে খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথাটি ফেলা হয়। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লা বোঝাই কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি অংশ এরইমধ্যে পাওয়া গেছে, আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

শাহীন হত্যা করেছে—এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে নিজেও ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুধু ঝগড়া-বিবাদের কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে, মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। এই বিষয়টি সে নিতে পারতো না। অনেক সময় রাতে শাহীনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত। তখন শাহীন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকে দিত।

হত্যাকাণ্ডের পর শাহীনের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরি করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মোড়ানো মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে মোড়ানো আরও দুটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় আরেকটি পা পাওয়া যায়।

নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম রানী বেগম। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্‌দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলে জানানো হয়েছিল।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আগারগাঁওয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
পুরোনো গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারও মানুষ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে তারা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন। সেখানে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।  এদিকে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি আজ শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।  এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।  গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।  এর মধ্যে ওই দিনই জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।  আরটিভি/এসআর
আগারগাঁওয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
তাঁতী দল নেতা হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
খুলনা মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার আসামি ফায়েক শেখকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৬। 
তাঁতী দল নেতা হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তরায় সতর্ক পুলিশ
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর উত্তরায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে উত্তরার রাজলক্ষ্মী থেকে বিমানবন্দর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।   বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।  তবে উত্তরখান-দক্ষিণখান আঞ্চলিক সড়ক হয়ে জসিমউদ্দীন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের অবস্থান নেওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কাউকে সড়কে নামতে দেখা যায়নি। এছাড়া সকাল থেকে যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলাচল স্বাভাবিক হয়। বুধবার উত্তরায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সব মার্কেট বন্ধ থাকায় লোকসমাগমও তুলনামূলক কম রয়েছে। সড়কে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে এখন পর্যন্ত পোশাক শ্রমিকদের কাউকে সড়কে নামতে দেখা যায়নি।   তিনি আরও জানান, দুই থেকে আড়াই হাজার লোক জড়ো হবেন- এমন একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বার্তাটি সঠিক নয় বলেও জানান তিনি। আরটিভি/এসআর
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তরায় সতর্ক পুলিশ
ঢাকায় বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কল্যাণপুরের উত্তরপাড়ার নবাবের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঢাকায় বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
বুধবার (৪ নভেম্বর) দেখে নিন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল ও এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
আরও পড়ুন
সাভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ওসিসহ আহত ৫০
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তরায় সতর্ক পুলিশ
দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’
গাজীপুরে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, উদ্ধারে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা