ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

অনৈতিক প্রস্তাবে অতিষ্ঠ হয়ে রুমমেটকে ৭ টুকরা, পুলিশের লোমহর্ষক বর্ণনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
নিহত ওবায়দুল্লাহর রুমমেট শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এ ঘটনার রহস্যও উদ্‌ঘাটন করে ফেলেছে পুলিশ। ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পাওয়া যাওয়া মানবদেহের খণ্ড-বিখণ্ড অংশগুলো একই ব্যক্তির এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

তদন্তে জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার দেহ সাত টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তারই রুমমেট শাহীন। মূলত, অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করতেন।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু শাহীন জানায়, তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসীম উদ্‌দীন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়। কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান।

রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই তিনি বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওই রাতে একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড় ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহটি বিভিন্ন অংশে খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথাটি ফেলা হয়। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লা বোঝাই কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি অংশ এরইমধ্যে পাওয়া গেছে, আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

শাহীন হত্যা করেছে—এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে নিজেও ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুধু ঝগড়া-বিবাদের কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে, মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। এই বিষয়টি সে নিতে পারতো না। অনেক সময় রাতে শাহীনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত। তখন শাহীন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকে দিত।

হত্যাকাণ্ডের পর শাহীনের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরি করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মোড়ানো মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে মোড়ানো আরও দুটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় আরেকটি পা পাওয়া যায়।

নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম রানী বেগম। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্‌দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলে জানানো হয়েছিল।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মোবাইল আসক্তি নিয়ে বকা, অভিমানে ঘর ছাড়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী
রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় বাবা-মায়ের বকাঝকার পর অভিমান করে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়া অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল আসক্তি নিয়ে বকা, অভিমানে ঘর ছাড়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী
মায়ের জন্য নতুন ঘরের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন মেহেদী
‘মা, এবার ঢাকা থেকে ফিরে তোমার জন্য নতুন ঘর করে দেব’ মাকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্মাণশ্রমিকের কাজে ঢাকায় এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মিম। পরিবারের অভাব দূর করার পাশাপাশি জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কারের স্বপ্ন ছিল তার। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ।
মায়ের জন্য নতুন ঘরের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন মেহেদী
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেখে নিন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল ও এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
গাড়ি চাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু / চালককে পুলিশে দিলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে আরেকজনকে
ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটকও করেছিলেন উপস্থিত লোকজন।  পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।  মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিল এবং চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করার পরও কেন তাঁকে মামলায় আসামি করা হলো না। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেলে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাঁকে চাপা দেয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ বের করে আনেন।  পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকতাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলার ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে মোক্তাদীর ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশও তাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের ভাষ্য, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে ওই কিশোর ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত। গাড়িটির চালকের আসনে কিশোরটি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজেও। সিসি ক্যামেরার ওই ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।  ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেট কারটি একটি সড়কবাতির পোস্টে লেগে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে আসেন। গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরকে নামতে দেখা যায়। গাড়ির অপর পাশ থেকে নামেন শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান নেন।  পরে কিশোরটিকে সেখান থেকে একদিকে সরে যেতে দেখা যায়। পরে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন ক্ষুব্ধ লোকজন। কিন্তু এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম নেই। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক আকাশ মারক (৪৪) বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তাঁর মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ বলছে, আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ বিষয়ে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘নিহত মেহেদীর বড় ভাই গাড়িটির চালক আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। ওই কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আরটিভি/এসআর  
চালককে পুলিশে দিলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে আরেকজনকে
চিকিৎসক সেজে রোগী ভাগানোর সময় নারী আটক
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন পরে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে শারমিন আক্তার (৩৪) নামে এক নারীকে আটক করেছেন আনসার সদস্যরা। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. সাদেক হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অভিযান চালায়। আনসার সদস্যরা ৩১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় শারমিন আক্তারকে দেখতে পান। তার পরিচয় ও হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। আনসারের ভাষ্য, শারমিন চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় তিনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে আনসার সদস্যরা নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করেন। অভিযানে পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চু, এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম ও আনসার মো. আকিদুল ইসলাম অংশ নেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শারমিনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। দালালি, প্রতারণা কিংবা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অন্যত্র নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও তারা সতর্ক রয়েছেন। আরটিভি/এসআর
চিকিৎসক সেজে রোগী ভাগানোর সময় নারী আটক
আরও পড়ুন
চিকিৎসক সেজে রোগী ভাগানোর সময় নারী আটক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তিন ডিসি বদলি
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কলির পায়ের খোঁজে ৭ দিন পর ঘটনাস্থলে পুলিশ
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭ কর্মকর্তা বদলি