
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ সোনা ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আব্দুর রউফ, রিপন ও আল-আমিন শান্ত। মামলায় রুবেল নামে আরেক যুবককে আসামি করা হয়েছে।
গত ২৯ আগস্ট মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, তার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত ২৮ আগস্ট তিনি পরিবারের ব্যবহারের জন্য ও বোনের বিয়ের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম সোনার গহনা পাঠান। ওই দিন সন্ধ্যা ৮টার দিকে বিমানবন্দর থেকে ভাইয়ের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ গ্রাম করে মোট ২০০ গ্রাম গহনা নিয়ে তারা একটি ভাড়াকরা হায়েস গাড়িতে ওঠেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীতে তারা গাড়ি থেকে নামার পর চার আসামি তাদের ঘিরে ধরেন। এ সময় আসামিরা ভুক্তভোগীদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে এবং তাদের কাছে বোমা রয়েছে বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীদের মারধর করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা গহনা ছিনিয়ে নেন।
বাদীর দাবি, তার কাছে থাকা ১০০ গ্রাম গহনার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা এবং রোহান চৌধুরীর কাছেও থাকা ১০০ গ্রাম গহনার মূল্যও প্রায় ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় একজন পথচারী ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং আরেকজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিমানবন্দর থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সোনা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে ওসি কামরুজ্জামান জুয়েল বিমানবন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, রোববার সকালে দুইজনকে এবং সন্ধ্যায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকালে গ্রেপ্তার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আরটিভি/ এসকেডি


