
দলের কঠিন সময়ে রাজপথ ছাড়েননি যিনি। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দলের ওপর বিশ্বাস রেখে পুরো ছাত্রজীবন সংগ্রাম করেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দাপট যখন তুঙ্গে, তখন সেই শক্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছাত্রদলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই কঠিন সময়ে নিজের ক্যারিয়ার ত্যাগ করা এই নেতা নিজের জন্য কখনও দলের কাছে চাননি কোনো কিছু।
বলছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েলের কথা। তবে আজ তিনি নিজেই দাঁড়িয়ে আছেন জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার সামনে। এবার তার লড়াই কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়; বড় ভাই মো. মাসুদুর রহমানের জীবন বাঁচানোর জন্য।
প্রায় এক মাস ধরে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত মাসুদুর রহমান জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের এই কর্মীকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে কোনোভাবে চলছে চিকিৎসা। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কিডনি প্রতিস্থাপনই এখন তার সামনে একমাত্র পথ।
অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসা, প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির। একদিকে প্রিয় মানুষটির জীবন বাঁচানোর চেষ্টা, অন্যদিকে চিকিৎসার দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া—পরিবারের ওপর তৈরি হয়েছে কঠিন চাপ।
এই দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে জুয়েলের মনে পড়ছে তার রাজনৈতিক জীবনের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা।
দেশে আওয়ামী লীগ সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রভাব যখন প্রবল, তখন ছাত্রদলের হয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলের দুঃসময়ে পাশে থেকে মাশুল দিয়েছেন।
তবে প্রতিকূলতার সেই সময়গুলোতেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেননি জুয়েল। কাউকে হেয় করা বা কটূক্তি করাকে রাজনীতির স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হিসেবেও দেখেননি।
পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতাকে। এরই মধ্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু দলের সুসময়ে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রত্যাশায় তিনি দলের কাছে যাননি।
আজ অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। নিজের জন্য নয়, অসুস্থ বড় ভাইয়ের চিকিৎসার কঠিন লড়াইয়ে তিনি দলের কাছে মানবিক সহায়তা ও মানসিক সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। এমনকি সরকার প্রধানের হস্তক্ষেপও কামনা করছেন তিনি।
নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল বলেন, ‘দলের দুঃসময়ের একজন সামান্য ও ক্ষুদ্রতম ব্যক্তি হিসেবে আমি ছিলাম। আমি আশা করি, দল এখন আমার পরিবারের পাশে দাঁড়াক। অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসার লড়াইয়ে মানসিক শক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপসহ সংশ্লিষ্ট সবার মানবিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
তার চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়—এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার একটি আশ্বাস, কিছুটা মানসিক শক্তি এবং মানবিক সহযোগিতা। যে মানুষটি একসময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আজ সেই মানুষটিই নিজের পরিবারের দুঃসময়ে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
সবশেষে দেশবাসী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে অসুস্থ বড় ভাই মো. মাসুদুর রহমানের জন্য দোয়া চেয়েছেন নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল।
আরটিভি/ এসকেডি


