ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী

বাসস

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
আইনমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত ‌‌‘Bangladesh Jamaat-e-Islami : Its History and Politic ‘ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো ব্যক্তি বা দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। একইভাবে কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয়। অন্যের মত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইটি তার কাছে শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং একটি সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। বইটিতে আবদুর রাজ্জাকের চিন্তা ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে।

বইটির আলোচনায় উঠে আসা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।

নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে।

বইটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান এবং জাতির কাছে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তার সেই অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন। সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা তার সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল।

আবদুর রাজ্জাক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালানোর জন্য উৎসাহিত করতেন উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচনা করেছিলেন।

আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে গেলে কখনো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চা পান করেছেন, কখনো টেলিফোনে কথা বলেছেন। জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এই বই পাঠ করা উচিত।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্স অ্যান্ড গভর্নমেন্টের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রিয়াজ, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডম-এর প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং দ্য ডেইলি স্টার-এর কনসালটিং এডিটর ও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।

আরটিভি/এমএ


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘গড়ি একসাথে মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করলো শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্ট 
‘শিক্ষা, সংযম, শৃঙ্খলা’—এই মহতী মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এক নতুন মানবিক ও সামাজিক অধ্যায়ের সূচনা করল বিএএফ শাহীন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম।
‘গড়ি একসাথে মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করলো শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্ট 
মিরপুরে জুলাই শহীদদের নামফলক অপসারণের গুজব, কান না দেওয়ার আহ্বান ডিএনসিসির
রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলক স্থায়ীভাবে অপসারণের খবরকে গুজব বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। 
মিরপুরে জুলাই শহীদদের নামফলক অপসারণের গুজব, কান না দেওয়ার আহ্বান ডিএনসিসির
দাবি মেনে নিতে বলা নেতারই রয়েছে ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকার সড়কে অটোরিকশা চলাচলে দাবি মেনে নিতে বলা একটি রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলেরই ৭০০ অটোরিকশার খোঁজ পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই গ্রাফিতি রিমেক কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষ নাই অটোরিকশার পক্ষে আন্দোলন করবে। কিন্তু একটা বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন অটোরিকশা চলাচলের দাবি সরকারের মানা উচিত। এইটা হাস্যকর। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তারই ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে। মিল্টন বলেন, অনেক জায়গায় ফুটপাত ভেঙে গেছে সেগুলো সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হকার ও রিকশা চালকদের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে। গ্রাফিতি অঙ্কন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের পিলার থেকে পোস্টার সরিয়ে গ্রাফিতি অঙ্কন করা হচ্ছে। এখানে কোনো রাজনীতিকরণ হবে না, যারা দেশে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে তাদের গ্রাফিতিতে রাখা হবে। আরটিভি/টিআর
দাবি মেনে নিতে বলা নেতারই রয়েছে ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮০
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন, চাপাতি ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ডিএমপি। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২১ জন, লালবাগ বিভাগে ৪১ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭১ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯০ জন, মিরপুর বিভাগে ১২৪ জন, গুলশান বিভাগে ৩২ জন, উত্তরা বিভাগে ৫১ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানকালে ১ কেজি ১৬০ গ্রাম গাঁজা, ২ হাজার ২৩৭ পিস ইয়াবা, ২০ বোতল ফেনসিডিল, ৮টি মোবাইল ফোন, একটি চাপাতি ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। আরটিভি/টিআর
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮০
ঢাকায় ২ তলা থেকে পড়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে ভাটারা সাঈদনগর বড় মসজিদ সংলগ্ন বাসার সাততলা ভবনের দুইতলা থেকে নিচে পড়ে যান তিনি।
ঢাকায় ২ তলা থেকে পড়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর
আরও পড়ুন
আগের বিয়ে গোপন করে আবারও বিয়ের রাস্তা বন্ধ হতে যাচ্ছে
আন্তদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর
একজন ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী
ব্যক্তি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারই আমাদের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী