
রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলক স্থায়ীভাবে অপসারণের খবরকে গুজব বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
সংস্থাটি জানায়, নামফলকগুলো সরিয়ে ফেলা হয়নি, বরং এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কারকাজ শেষে এগুলোকে আরও সুন্দর ও নান্দনিকভাবে পুনরায় স্থাপন করা হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ডিএনসিসির মুখপাত্র মো. জাকির হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলক স্থায়ীভাবে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। বরং সংস্কারকাজ শেষে নামফলকগুলো আরও সুন্দর, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দনভাবে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
এতে আরও বলেন, শুক্রবার মিরপুর-১০ নম্বরে ডিএনসিসি আয়োজিত ‘জুলাই গ্রাফিতি রিমেক’ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামফলক সরিয়ে ফেলা নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের পুলিশ বক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই পুলিশ বক্সের সংস্কার এবং পুরো এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান সংস্কারকাজের সুবিধার জন্যই পুলিশ বক্সের দেয়ালে থাকা নামফলকগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশনায় সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নামফলকগুলো স্থায়ীভাবে সরানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং প্রশাসকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নামফলকগুলোর নকশা নতুন করে তৈরি করে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে আরও দৃষ্টিনন্দনভাবে স্থাপন করা হবে।
নতুন নকশায় নামফলকগুলো বসানো হলে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলো আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যোদ্ধাদের অবদান স্মরণে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই নামফলকগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় ডিএনসিসি।
সংস্কারকাজ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে নামফলকগুলো আরও আকর্ষণীয় ও নান্দনিকভাবে স্থাপন করা হবে। তাই সাময়িকভাবে নামফলক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে প্রকৃত বিষয়টি জানার আহ্বান জানিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এই বিষয়গুলোকে সমন্বয় করে মিরপুর-১০ গোলচত্বরকে আরও সুন্দর ও নান্দনিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএ


