
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প মানেই মাদক ব্যবসা, আধিপত্যের লড়াই আর রক্তাক্ত সংঘাত। এই অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন মুখরোচক গল্প।
সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন ক্যাম্পের অন্যতম শীর্ষ মাদকসম্রাট রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতেন রাজা। আয় কম হওয়ায় পরবর্তীতে একটি গ্যাস পাম্পে চাকরি নিলেও এক ঘটনায় তা হারান। ২০১৮ সালে জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশের এক অভিযানে ৫১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন তিনি।
এটিই ছিল তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে ছোটখাটো মাদক ব্যবসা শুরু করেন। পরে আবার কারাগারে গিয়ে বড় বড় অপরাধীদের সংস্পর্শে আসেন এবং বের হয়ে পুরোদমে অপরাধ জগতে যুক্ত হন।
২০১৪ সালে তৎকালীন গডফাদার ইশতিয়াকের হাত ধরে অপরাধ জগতে পা রাখা রাজা ২০২০ সালে ইশতিয়াকের মৃত্যুর পর ক্যাম্পের মাদক ব্যবসার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নেন। একপর্যায়ে টেকনাফ থেকে সরাসরি মাদকের চালান এনে ক্যাম্পে সরবরাহের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক ও মাদকসহ মোট ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কেবল মোহাম্মদপুর থানাতেই রয়েছে ২৯টি মামলা (৩টি হত্যা, ৭টি হত্যাচেষ্টা, ৪টি বিস্ফোরক ও ১৩টি মাদক মামলা)।
বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পের আধিপত্য, মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ আদায় নিয়ে বুনিয়া সোহেলসহ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে রাজার তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই আধিপত্যের লড়াই কেন্দ্র করে ক্যাম্পের ভেতরে পরপর অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন পিচ্চি রাজা। স্থানীয়দের তথ্যমতে, তার শ্বশুর খোরশেদ, শালা নয়ন ও ফুফাতো ভাই রনির নিয়ন্ত্রণে ২৫ থেকে ৩০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
তাছাড়া আদি, নবাব, শাহজাদা, ফাইজান, বেলুন, রুবেল, নাটা সুমন, সুজন ও ব্যাটারি কামরানসহ একদল সহযোগীর মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পের মাদক সরবরাহ, চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ পরিচালনা করতেন।
গত ১৯ মে নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রিজন ভ্যান থেকে টয়লেটে যাওয়ার অজুহাতে পলানোর পর তাকে পুনরায় গ্রেফতার করতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান জানান, কে সোর্স আর কে সোর্স নয়, তা মুখ্য বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা। পিচ্চি রাজাসহ ক্যাম্পের সব অপরাধীকে গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
আরটিভি/এসআর


