
বিমানবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে তাহসিফের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তার পরিবার। এ ঘটনায় তার পরিবার জানাল আরও এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।
নিহত তাহসিফের পরিবারের দাবি, রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস এলাকায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে তাহসিফ সৌরিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন আহত অবস্থায় ছিলেন। তবে প্রথম দফায় ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় দফায় নিখোঁজের পরদিন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে কাছে এমন অভিযোগ করেন তাহসিফের স্বজনরা।
নিহত তাহসিফ সৌরি তুরাগের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের করবী ভবনের কে এম এনায়েতুল করীম হেলালের বড় ছেলে। তারা তিন ভাই বোন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তাহসিফ সৌরি ছিলেন সবার বড়।
এর আগে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নাম আলোচনায় এসেছিল। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ নিশ্চিত করেনি।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ৪ আগস্ট জানিয়েছিল, কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই এবং সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করে ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপটে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো পাঞ্জাবি। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন থাকায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার খালাতো বোন পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুললেও, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরটিভি/এসআর



