ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ৭ মরদেহের বিপরীতে ৪ বাবার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের মরদেহ শনাক্ত করতে ৪ বাবার কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন একই পরিবারের খালাতো ভাই-বোন। তাদের মধ্যে চারজন মেয়ে ও দুজন ছেলে। নিহতদের শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সন্তানদের শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে যান নিহতদের স্বজনেরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ।

স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন—নিহত মোহাম্মদ নাফিস ও ফারিহা কবিরের বাবা এমপি জেহাদুল কবির। তার সঙ্গে রয়েছেন দুই মেয়ে ইশরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহান নাবিলার বাবা মো. মামুনুর রশিদ।

সাত বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূরের মরদেহ শনাক্ত করতে এসেছেন বাবা মো. নূরে আলম। আর মিথিলা মেহেজাবীন আলভীর পরিচয় শনাক্তের জন্য নমুনা দিতে এসেছেন তার বাবা শাহজাহান।

জেহাদুল কবির, মামুনুর রশিদ ও শাহজাহান সম্পর্কে ভায়রা ভাই। নূরে আলম জেহাদুল কবিরের জামাতা।

রক্তের নমুনা দিয়ে সিআইডি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জেহাদুল কবির বলেন, তাদের পরিবারের ছয়জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আগুনে পুড়ে সবার শরীর অঙ্গার হয়ে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ওদের লাশ কবে নাগাদ শনাক্ত হবে, তা এখনো বলতে পারছি না। এখান থেকে আশ্বাস দিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ শনাক্ত করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কত দিন লাগবে, তা বলতে পারছে না।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে জেহাদুল কবির বলেন, আমাদের সন্তানদের তো আর আমরা ফিরে পাব না। কিন্তু তাদের মরদেহগুলো যেন যত দ্রুত সম্ভব সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, কক্সবাজারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে।

নিহত ইশরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহান নাবিলার চাচা আবু তালেব বলেন, রোববার সকালেই নিহতদের বাবা-মায়েরা নমুনা দিতে মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে যান। নিহত ব্যক্তিদের দেহাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করছে সিআইডি। এ জন্য পরিবারের কয়েকজন প্রতিনিধি কক্সবাজারেও রয়েছেন।

উখিয়ার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন লাগে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ৬ জন রয়েছেন।

তারা হলো ঢাকার খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ার এলাকার আশিকুর রহমানের স্ত্রী ইশরাত জাহান মালিহা, তার শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি ও ফারিহা কবির রয়েছেন। এ ছাড়া রয়েছে পরিবারের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী জেরিফ এবং নিহত ফারিহা কবিরের সাত বছর বয়সী শিশু ফায়িজা নূর।

স্বজনেরা জানান, পরিবারের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শনিবার তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ফেরার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তারা। কিন্তু তার আগেই সকালে আগুনে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুনে নিহত ১০ জনের মরদেহ ভয়াবহভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাদের চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

সন্তানদের হারানোর শোকের সঙ্গে এখন মরদেহ শনাক্তের অনিশ্চয়তাও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনেরা। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষা করছেন তারা। তাদের আকুতি, দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চুরি যাওয়া এক মোটরসাইকেল খুঁজতে গিয়ে মিলল আরও আটটি
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি লোহার চাবি ও ৯টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
চুরি যাওয়া এক মোটরসাইকেল খুঁজতে গিয়ে মিলল আরও আটটি
মাঝ আকাশে দরজা খুলে গেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের, ঢাকায় নেমে রোগীর মৃত্যু
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মাঝ আকাশে দরজা খুলে গেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের, ঢাকায় নেমে রোগীর মৃত্যু
চাঁদাবাজের খোঁজ পেলে ধরে আনুন: ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকার নির্ধারিত সড়ক ও ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে লাইসেন্স ছাড়া কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
চাঁদাবাজের খোঁজ পেলে ধরে আনুন: ডিএসসিসি প্রশাসক
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৪৯০ জন ধরা
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  এ তথ্য জানায় ডিএমপি। 
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৪৯০ জন ধরা
ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের ছুরিকাঘাতে আহত বাবার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম লিটন মিয়া (৪৫)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ১টা ৫ মিনিটে মারা যান তিনি।   নিহতের বড় ছেলে রাসেল আমিন জানিয়েছেন, তার ছোট ভাই সোহেল মানসিক রোগী, কিছু দিন ভালো থাকে, আবার খারাপ (পাগল) হয়ে যায়। তাই তাকে মাঝে মধ্যে মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হয়।  তিনি বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে মোবাইল দেখছিল সোহেল। তার বাবা তাকে মোবাইল বন্ধ করতে বলেছিলেন। পরে সবাই রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে যার যার রুমে ঘুমাতে যায়। মা সানু বেগম সবার খোঁজ খবর নিয়ে নিজের রুমে ঘুমাতে যান। এ সময় সোহেল হঠাৎ তার বাবা-মায়ের রুমে গিয়ে তাদের ছুরিকাঘাত শুরু করে।  তিনি আরও বলেন, পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর ছেলেকে আটক করে পাবনায় মেন্টাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসায় মা সুস্থ হলেও, বাবা গতরাতে মারা যান।  নিহতের স্বজনদের এ ব্যাপারে কোনও অভিযোগ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে (যাত্রাবাড়ী) অবগত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন নিহতের বড় ছেলে রাসেল আমিন।    ডেমরা কোনাপাড়া আদর্শবাগ এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন লিটন মিয়া। তিন ছেলের জনক ছিলেন তিনি।  নিহতের লাশ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।  আরটিভি/এসআর
ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার
আরও পড়ুন
চোখের সামনে দিয়ে চলে যায় ট্রেন, উঠতে পেরোতে হয় ৬০ কিলোমিটার
কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকাকে খুঁজছেন স্বজনরা
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হবেনা ফাইজানের
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে