ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

রাজধানীর ঘুণ্টিঘরে মাদকের আড্ডার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
রাজধানীর ঘুণ্টিঘরে মাদকের আড্ডার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদক সেবন ও আড্ডার জন্য তৈরি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সিটি করপোরেশনের হুইল লোডার দিয়ে ছোট ছোট ঘরের আকৃতিতে তৈরি এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে এলাকাটি পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে সেখানে যানবাহন চলাচল করতে পারে।

গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘ঘুন্টিঘর এলাকায় রাস্তা-ঘাট সব পরিষ্কার করে, গাড়ি চলাচলের যোগ্য করছি। রেললাইনের পাশে যে মাদকের আড্ডা ছিল, সেটা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সেখানে সবসময় গাড়ি মুভমেন্ট করবে।’

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের যন্ত্রপাতি, সাবেক কাউন্সিলর, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এ কাজে এলাকার মানুষের সহযোগিতা রয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ আশপাশের মাদকপ্রবণ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০। ওই অভিযানে অন্তত ১৪ জনকে আটক করা হয়। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।

এর আগে ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। পরে ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের স্থান হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও কিছুদিন পর সেখানে আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের উপস্থিতি দেখা যায়।

কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে একাধিক অভিযান চালায়। তবুও মাদক কেনাবেচা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ আসছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়
রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বড় একটি এলাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে একযোগে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়
সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে ঝলসে গেলেন নারী
রাজধানীর নতুন বাজার এলাকায় সাবেক স্বামীর ছোড়া অ্যাসিডে রোজিনা আক্তার (২২) নামে এক নারী দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে ঝলসে গেলেন নারী
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়নের গুঞ্জন
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার দায়িত্বে আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তাদের পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।  অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সততা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) বিবেচনার পরিবর্তে প্রভাব ও পছন্দের ভিত্তিতে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এ জন্য ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। আসন্ন ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও অর্থায়নের সঙ্গে এসব পদায়নের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।  লটারি ও পদায়ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীদের গ্রেডিং, লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।  অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলীদের এ-প্লাস, এ, বি, সি ও ডি এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হলেও ক্যাটাগরি নির্ধারণের নীতিমালা, মূল্যায়নের বিবরণ ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হয়নি। একাধিক বাক্সে আলাদাভাবে কর্মকর্তাদের নাম রেখে লটারির ফল প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। ঢাকার চার থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে কাদের পদায়ন করা হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, আহসান হাবীব, রেজা তাইমুর মালিক, মাসুম বিল্লাহ ও রাশেদ আহসানসহ কয়েকজনের গ্রেডিং ও পদায়নপ্রক্রিয়া তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, লটারির আগে গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ও মো. জিয়াউর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সচিব সারোয়ার আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব, সংস্থাপন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহার এবং নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়ার ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগে বলা হয়েছে, আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩, রেলওয়ে ডিভিশন ও প্রকল্প বিভাগ-৫-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন। সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার সুযোগে এসব পদায়ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। ২০০০-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার রাজনৈতিক যোগাযোগ পদায়নে প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। মো. জিয়াউর রহমান সংস্থাপন-২ শাখায় দায়িত্ব পালনের পর শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ পদায়ন পান। সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে তার নিয়োগের যোগ্যতা, অনুমোদন এবং প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। অন্যদিকে, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি চাকরি পেয়েছেন এবং প্রথমে নগর গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন পেয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।  ডিসেম্বরকে ঘিরে পদায়ন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল), ২০০ জন সহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং ১২০ জন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। এই বদলির মধ্যে সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদর দপ্তর এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সাবেক রাজনৈতিক দলের এক নেত্রীর সম্ভাব্য আগমন, রাজনৈতিক অর্থায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদায়নের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, গ্রেডিংয়ের নীতিমালা, মূল্যায়ন শিট, লটারিতে ব্যবহৃত বাক্স ও নামের তালিকা, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী এবং চূড়ান্ত পদায়ন আদেশ পরীক্ষা করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। মাসুদ রানার বিরুদ্ধে সম্পদ ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ গণপূর্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং বদলি-বাণিজ্যের মাধ্যমে পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, বাড়ি, প্লট, দোকান, জমি, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থসহ শত কোটি টাকার কাছাকাছি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ ও বৈধতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ ও বিভাগ-৪-এ দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের ভুয়া প্রাক্কলন তৈরি, দরপত্রের গোপন তথ্য ফাঁস এবং কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। একই বিভাগে পুনরায় পদায়ন, নিরাপত্তা যাচাই নিয়েও প্রশ্ন রাজিবুল ইসলাম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ থেকে মহাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পর আবার একই বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পদায়নের ধারাবাহিকতা এবং বদলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। রেজা তাইমুর মালিক ঢাকা মেইনটেন্যান্স বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লটারিতে নির্বাচিত হয়েছেন। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালনের পর এনএসআই ও দুদকের সদর দপ্তর এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই ও প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না। তার বাবা মো. রেজাউল হক মালিক (মুকুল) চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী শরিফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাশেদ আহসানের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর মিরপুর এবং বর্তমানে আজিমপুর-সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে তার পদায়নে কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। লটারিতে বৈষম্যের অভিযোগ পূর্তভবন-সংশ্লিষ্ট একটি পদে শামসুন্নাহার ঝুমার নাম লটারিতে উঠলেও একই পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তাদের নাম কেন বাদ পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। লিবনী জামানকে হবিগঞ্জে পদায়ন করা হলেও একই পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে তাদের দাবি। একই পদমর্যাদার অর্ধশত কর্মকর্তা বহাল থাকা সত্ত্বেও কারা লটারির আওতায় এসেছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। লটারি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) এবং নির্বাহী প্রকৌশলীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে কথিত সিন্ডিকেট গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ ও লেনদেনের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, সম্পদ কেনার উৎস এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের নামে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যা বলছেন বিশ্লেষকরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাসভবন, ডিজিএফআই প্রধানের বাসভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কর্মকর্তাদের হাতে থাকলে তা সরকারের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে এখনই গভীরভাবে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, তার বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বাইরে অন্য কারও জীবনের হুমকি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তার বক্তব্য, যারা এসব পদায়ন দিয়েছেন, তারা জেনেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিষয়টি না জেনে পদায়ন করেছেন এমনটি মনে করার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলারা চৌধুরীর মতে, এসব পদায়নের পেছনে পরিকল্পনা থাকতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।   আরটিভি/এসকে
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়নের গুঞ্জন
এমডির নির্দেশে বলাকায় ২১ দিন সাংবাদিক প্রবেশে বাধা, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় বলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা)। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিতে তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর জবাব ও হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
এমডির নির্দেশে বলাকায় ২১ দিন সাংবাদিক প্রবেশে বাধা, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ভিড় জমেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রিয় নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান এলাকায় যুবদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এ সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় ‘তারেক রহমানের জন্য বাংলাদেশ ধন্য’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘আজকের এই দিনে জিয়া তোমায় মনে পড়ে’ এবং ‘জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে যুবদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী যুবনেতা মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু উদ্‌যাপনের উপলক্ষ নয়, বরং সংগঠনের অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতের দায়িত্ব নির্ধারণের দিন। আজ ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শৃঙ্খলা, সততা ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনে নিজেদের নিয়োজিত করার শপথের দিন; যে শপথ ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদলকে করিয়েছিলেন।  তিনি বলেন, দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদারে যুবদল বরাবরই কার্যকর ভূমিকা রেখে এসেছে, ভবিষ্যতেও তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। আমরা এমন একটি যুবসমাজ গড়ে তুলতে চাই, যারা দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং দেশ গঠনে প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে যুবদল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুবদলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুবদলের নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে যুবদল দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু আনন্দ-উৎসবের দিন নয়, এটি আমাদের জন্য নতুন করে শপথ নেওয়ার দিন। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দলটির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুবদলের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুবদল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রক্তদান কর্মসূচি ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ২৭ ও ২৮ অক্টোবর সারা দেশে আলোচনা সভা, র‍্যালি, সমাবেশ, রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি। পাশাপাশি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন নুরুল ইসলাম নয়ন। আরটিভি/টিআর
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল
আরও পড়ুন
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ
তিউনিসিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, কমবে তাপমাত্রা