
নিখোঁজের পর বিমানবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে নিখোঁজের সন্ধ্যায় কি ঘটেছিল তার বর্ণনা দিয়েছেন শাহরিয়ার দ্বীপ নামের এক জুনিয়র।
দেশের একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দ্বীপ বলেন, আমার বাইক এবং উনার বাইক একই মডেলের। তো উনার বাইকটা অকেজো হয়ে পড়েছিল। যেহেতু আমার সেম মডেলের বাইক আছে এবং আমি আমার বাইক খুবই মেইনটেন্যান্স করে রাখি।
‘আমি জানি যে কখন কী করতে হবে, ইঞ্জিন অয়েল কীভাবে কী চেঞ্জ করতে হবে। তো তাকে আমি ওর বাইকটা স্টার্ট নিতে সাহায্য করি এবং আমরা একসঙ্গে উত্তরার একটা ওয়ার্কশপে যাই। ওইখানে গিয়ে তার বাইকের ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করে। আরও বেশ কিছু বিষয় ছিল সেগুলা কমপ্লিট করে আমরা আবার এপার্টমেন্ট প্রজেক্টে ফেরত আসি।
তিনি বলেন, সেখান থেকে একটা রেস্টুরেন্টে যাই। আমরা দুইজন মিলে ডিনার করি। আমি বের হয়ে আমার বাসার দিকে চলে আসি, উনি আরেক দিকে চলে যান। আমি স্পেসিফিকভাবে জানি না আসলে উনি কোন কাজে কোন দিকে চলে গিয়েছিলেন।
তাহসিফের সঙ্গে কতক্ষণ ছিলেন; এমন প্রশ্নের জবাবে দ্বীপ বলেন, আমার সঙ্গে আসলে উনি অনেকক্ষণ ছিলেন। তবে বাইকের কাজে প্রায় এক-দেড় ঘণ্টার মতো ছিলাম। তার সঙ্গে আমার... মোস্ট প্রোবাবলি সময় খেয়াল নেই, তবে তার সঙ্গে আমার দেখা রাত ৯টার দিকে। আর আমি যখন বাসার দিকে চলে আসি, তখন ১১:৩০টা থেকে ১২টার মতো বাজে। তিন ঘণ্টার মতো। তার মধ্যে দুই ঘণ্টাই আমরা ওয়ার্কশপে ছিলাম।’
তাহসিফের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, উনি আমার বয়সে সিনিয়র। আমার খুবই কাছের একজন বড় ভাই ছিলেন। এমনও হয়েছে, আমরা সপরিবারে তাদের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছি।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো পাঞ্জাবি। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন থাকায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার খালাতো বোন পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুললেও, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরটিভি/এসআর



