ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্ধ হয়ে যাওয়া মোগলহাট স্থলবন্দরটি কবে চালু হবে?

স্টাফ রিপোর্টার, লালমনিরহাট, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৭ এএম
ফাইল ছবি

লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী মোগলহাটে একটি শুল্ক স্টেশন স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী লালমনিরহাট মোগলহাট রেলওয়ে সেকশনসহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এখানকার পুলিশ ইমিগ্রেশন চেকপোপস্টটিও।

ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের কয়লা উৎপাদনকারী খনিগুলোর অবস্থান কাছাকাছি বলে মোগলহাটে একটি শুল্ক স্টেশনের দাবি এলাকাবাসীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিল।

স্থানীয় কয়লা আমদানিকারকদের মতে, মোগলহাটে শুল্ক স্টেশন হলে প্রায় তিনশ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বুড়িমারী শুল্ক স্টেশন দিয়ে তাদের কয়লা আমদানি করতে হবে না। এ রুট দিয়ে অতি অল্প টাকায় পরিবহন খরচে কয়লা আমদানি সম্ভব হবে।

একইভাবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটি গুটিয়ে নেয়ায় কোচবিহার অঞ্চলের যাত্রীদের বর্তমানে দুইশ কিলোমিটার ঘুরে বুড়িমারী হয়ে আসতে হচ্ছে।

ব্রিটিশ আমল থেকে ঐতিহ্যবাহী বেঙ্গল ডুয়াস। রেলওয়েতে আসাম মেইল চলাচল করায় মোগলহাট একটি প্রসিদ্ধ স্থান হিসেবে পূর্ব থেকে পরিচিতি লাভ করে। মোগলহাটের ওপারে অবস্থিত ভারতের গিতালদহ, দিনহাটা, ওকড়াবাড়ী এলাকার লোকজন নজিরহিবীন ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে বর্তমানে বুড়িমারী দিয়ে চলাচল করছে।এতে করে যাত্রীদের একদিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে অপরদিকে যাতায়াত খরচ বেড়ে গেছে প্রায় তিন গুন । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৮৮ সালে বন্যার পর বন্ধ হয়ে পড়ে লালমনিরহাটের মোগলহাট শুল্ক বন্দরটি গোডাউন ঘর, কাষ্টম্স অফিস, চেকপোষ্টসহ অন্যান্য ভবনগুলো ভেঙে জরাজীর্ণ দশায় পরিণত হয়েছে।এ বন্দরটি পুনরায় চালু হলে জেলায় ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠাসহ বেকারত্ব অনেকটা কমে আসবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। মেগলহাট স্থলবন্দর ও রেলস্টশনটি পুনরায় চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন,স্মারকলিপি প্রদানসহ আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

১৯১২ সালে বৃটিশ সরকারের আমলে চালু করা হয় লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাটে অবস্থিত এই শুল্ক স্থলবন্দরটি। দেশ স্বাধীনের পরেও এই বন্দরটি দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার- ভারতের ধরলা নদীর ওপর গীদালদহ ব্রিজ দিয়ে উভয় দেশ রেলপথে পাসপোর্টধারী মানুষ যাতায়াতসহ ব্যবসায়ীরা সহজেই ভারত হতে কয়লা,পাথর, ফলমূলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে থাকতো।

কিন্তু ১৯৮৮ সালে বন্যায় ভারতের ধরলা নদীর ওপর গীদালদহ ব্রিজের উভয় দেশের সংযোগ রেলপথ ভেঙে যাওয়ায় এটির ব্যবহার আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৯৯০ সালের পর নৌকায় করে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা যাতায়াত করলেও নিরাপত্তার অভাবে ওই সময়ে আশানুরূপ পাসপোর্টধারী মানুষ যাতায়াত না করায় ১৯৯১ সালে এটিও বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর মোগলহাট থেকে লালমনিরহাট ট্রেন চলাচল চালু থাকলেও ১৯৯৬ সালে মোগলহাট রেলস্টেশনটির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। অথচ লালমনিরহাটের মোগলহাট শুল্ক স্থলবন্দরটি চালুর ব্যাপারে প্রত্যেক সরকারের এমপি ও নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন সংস্কার ও অবকাঠামোগত কাজ করে এই বন্দরটি চালু করা হলে লালমনিরহাটের মোগলহাট থেকে মাত্র চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারত হয়ে সহজেই কুচবিহার হয়ে নেপাল, ভুটান হতে রেলপথে কয়লা,পাথর, ফলমূলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করা সম্ভব।

মোগলহাট স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন জানান, মোগলহাট স্থলবন্দরটি পুনরায় চালু হলে জেলায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠাসহ বেকারত্ব অনেকটা কমে আসবে। শুধু তাই নয়, পাল্টে যেতে পারে সীমান্তবর্তী মোগলহাট শুল্ক স্থলবন্দরের চিত্র। মোগলহাট স্থলবন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক বিষয়ের উন্নতি ঘটবে, বাড়বে সরকারি রাজস্ব। লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সিরাজুল হক জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মোগলহাট স্থলবন্দরটি চালু এ অঞ্চলের মানুষের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই আবারও এটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ জেলার মানুষ বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও এগিয়ে যাবে।

লালমনিরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি এস,এ হামিদ বাবু আরটিভি নিউজকে জানান, পরিত্যক্ত মোগলহাট স্থলবন্দরটি চালু হলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। তিনি আরও জানান, এর আগে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন পরিত্যক্ত মোগলহাট রেলস্টেশন পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শনে এসেছিলেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া এ স্থলবন্দরটি চালুর ব্যাপারে সরকার দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবে এ প্রত্যাশা এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী সমাজসহ সর্ব মহলের।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু

জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
বুড়িমারীতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার 
বুড়িমারীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার আরও ১
আদিতমারীর ইউএনওকে উপজেলা চেয়ারম্যানের হত্যার হুমকি
লালমনিরহাটে লাশ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিনের ৫ দিনের রিমান্ড (ভিডিও)