
চিকিৎসকের ভুলে প্রাণ গেলো বিকেএসপির সাবেক তারকা জুডো খেলোয়াড় প্রিয়াংকা আক্তার। গতকাল শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি গ্রীন লাইফ হাসপাতালে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের অপারেশন চলাকালে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের গাফিলতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা।
প্রিয়াংকার বন্ধু, বিকেএসপির সাবেক ফুটবলার ময়মনসিংহের শরিফ হোসেন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকের ভুলেই প্রিয়াংকার মৃত্যু হয়েছে। আমার সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। ওর বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা গ্রামে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের বাবা-মায়ের পাঁচ বোনের মধ্যে প্রিয়াংকা ছিল তিন নম্বর। সেই ছিলো তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিকেএসপিতে পড়া অবস্থায় জুডোতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল। সর্বশেষ জুডো দলের খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশ আনসার বিভাগে যুক্ত ছিল।
শরিফ হোসেন আরটিভি নিউজকে আরও জানিয়েছেন, বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের নার্ভে সমস্যাজনিত কারণে আমি ওকে বছরখানেক আগে ওই হাসপাতালে ডা কেকে কৈরির কাছে নিয়ে যাই। তিনি ওকে দেখে অপারেশনের পরামর্শ দেন। এরপর আমি ওকে নিয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই তিন মাস আগে। সেদিন ওর অপারেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। তার দেয়া সময় অনুযায়ী গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল দুইটার দিকে অপারেশনের জন্য ভর্তি করি।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডা. কে কে কৈরি এবং তার ছেলে তন্বয় কৈরি ওকে অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময়েও ওকে সেখান থেকে বের না করায় চিন্তা লাগছিলো। তার জ্ঞান কেনো ফিরছে না, বারবার জিজ্ঞাসা করলেও তারা কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। সম্ভবত অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগে সমস্যা হচ্ছিল বলে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলো। এরপর ওর মরদেহ বের করে দেওয়া হয়। আমি এর বিচার চাই। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই। ওর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। একমাত্র পরিবারের আয়ের উৎস। তার অনেক ট্যালেন্ট ছিলো এবং দেশের সম্পদও। ওকে মেরো ফেললো। প্লিজ, আপনারা এর বিচার করুন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের মন্তব্য করেনি।
বিকেএসপির উপাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, প্রিয়াংকা ছিলো স্বর্ণের টুকরা। এইভাবে ওর মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না।
এমআই




