
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সোমবার (৪ অক্টোবর) সকালে ক্ষমতার দাপটে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত উপজেলা খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা সেড ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অরক্ষিত রয়েছে খাদ্য গুদামটি।
এলাকাবাসী, খাদ্য গুদাম ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় উপজেলা খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা সেড, সীমানা প্রাচীর ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। যার ব্যয় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি।
নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে উন্নয়ন কাজ শেষ হলেও এখনও বাকি রয়েছে কিছু কাজ। ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা সেড ও সীমানা প্রাচীরে হানা দেন কালিয়াকৈর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক হোসেন। তিনি পৌরসভার পক্ষ থেকে ৬ ফুটের পায়ে হাটা রাস্তাটি জোরপূর্বক ১২ ফুট প্রশস্ত করার চেষ্টা করছেন। এ লক্ষে তিনি দু'পাশে বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙা হলেও ওই রাস্তার অভিমুখে পৌরসভার প্রভাবশালী ঠিকাদার হুসেন আলীর সীমানা প্রাচীর ভাঙেনি। ওই ঠিকাদারের সীমানা প্রাচীর কৌশলে অক্ষত রেখে ক্ষমতার দাপটে কাউন্সিলর তার লোকজন নিয়ে সোমবার সকালে উপজেলা খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা সেড ও সীমানা প্রাচীর ভাঙা শুরু করেন।
খবর পেয়ে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে বাধা দিতে গেলে তাদেরও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-দমকি দেন কাউন্সিলর ফারুক। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান এবং খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা সেড ও সীমানা প্রাচীর ভাঙা বন্ধ করেন।
এসময় ভাঙচুর বন্ধ রাখলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চলে গেলে আবারও ভাঙচুর শুরু করেন কাউন্সিল ফারুক ও পৌরসভার প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম। অরক্ষিত রয়েছে খাদ্য গুদামের প্রায় ৫ কোটি টাকা মুল্যের মালামাল। এদিকে ক্ষমতার দাপটে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনাটি সাংবাদিকরা ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে ক্ষিপ্ত হন ওই কাউন্সিলর ফারুক হোসেন। এসময় তিনি বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য এটা ভাঙা হচ্ছে।
ওই খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক আবুল কালাম আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, খাদ্য গুদামের পাশের ওই রাস্তাটি প্রশস্ত করলে স্থানীয়দেরও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙা পড়বে। এ কারণে স্থানীয় লোকজন খাদ্যমন্ত্রীর বরাবর একটি আবেদন করেছেন। পরে এ বিষষে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসে আমাদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু ওই কাউন্সিলর কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে আমাদের নিরাপত্তা সেড ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই খাদ্য গুদামে ভাঙচুর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে মৌখিকভাবে জনগণের স্বার্থে রাস্তার জন্য খাদ্য গুদামের নতুন সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর সেটা ভাঙার কথা বলা হয়েছে।
এমআই




