প্রায় ২০ বছর ধরে পায়ে শিকলবন্দি জীবন কাটছে বাবার। তার পাশেই শিকলেবন্দি ছেলে। মানসিক ভারসাম্যহীন বাবা-ছেলের এমন বেদনার দৃশ্য দেখে চোখের কোনে জল আসবে যে কারোই।
সরকারি সহযোগিতা ও উন্নত চিকিৎসা পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তারা। এমন আশায় পথ চেয়ে আছে হতদরিদ্র পরিবারটি। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
নোঙরা পরিবেশে কাটে তাদের দিন-রাত।
নিজের চোখে না দেখলে হয়ত এ কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সালাউদ্দিন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের বাসিন্দা। একসময় সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে তার মানসিক সমস্যা দেখা হয়। পরিবারের সদস্যদের মারধরের পাশাপাশি অন্যের ঘর-বাড়িতেও ভাঙচুর করেন। বাধ্য হয়ে তাকে হাত-পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
মাসুম একসময় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ পরিবারের আরেক ছেলে ও মেয়েও মানসিক রোগী। তাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার দরকার হলেও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে এক পরিবারের চার সদস্য মানসিক প্রতিবন্ধী। বিষয়টি জেনে তাদের সহায়তায় ছুটে আসেন ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, তাদের স্বাবলম্বী করতে সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও ঢাকায় এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় হয়ত সালাউদ্দিনের জীবনের বেদনার গল্পটা পাল্টে যাবে। পরিবার নিয়ে আবারও সুখে বসবাস করবেন তিনি।
জিএম/এসকে




