
পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়ে গেছে নোয়াখালী হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের মাঠঘাট। গত তিন দিন ধরে দিনে ও রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা করে ৭ ফুট পানির নিছে ডুবে থাকে বিস্তীর্ণ এলাকা। বেড়িবাঁধ না থাকায় খুব সহজে এই ইউনিয়নের লোকালয়ে চলে আসে জোয়ারের পানি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিঝুমদ্বীপ বন্দরটিলা ঘাট থেকে নামার বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কটি ৩ ফুট পানির নিছে তলিয়ে রয়েছে। এই রাস্তায় চলাচলকারী মোটরসাইকেল ও যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও চালকরা হেটে হেটে রাস্তা পার হচ্ছেন।
নিঝুমদ্বীপে কর্মরত দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার সম্বন্নয়কারী নুরনবী জানান, জোয়ারের সময় প্রধান সড়কে সকল ধরনের চলাচল বন্ধ থাকে। কেউ জরুরি প্রয়োজনে ইচ্ছা থাকলেও দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে পারে না। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে পুরো সড়ক।
নিঝুমদ্বীপের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কেফায়েত উল্লাহ জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি হলে তলিয়ে যায় নিঝুমদ্বীপের অধিকাংশ ওয়ার্ড। গত কয়েক দিনে জোয়ারের পানি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভেঙে গেছে প্রধান সড়কের অনেক জায়গা। জোয়ারের পানি নেমে গেলে দেখা যায় সড়কে বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিঝুমদ্বীপে চোট বড় ৫০টি মৎস্য খামার রয়েছে। গত কয়েক দিনে জোয়ারে সবগুলো খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে এসব খামারের লাখ টাকার মাছ।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আফছার দিনাজ বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নটির অবস্থান সাগর পাড়ে। নেই বেড়িবাঁধ। এতে চার পাশ থেকে একসঙ্গে জোয়ারের পানি প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও জোয়ারের পানি নামতে না নামতে পুনরায় জোয়ার চলে আসে। এখানে মানুষ জোয়ার আসার আগেই তাদের দৈনন্দিন কাজ শেষ করে। নিছু এলাকার লোকজন বসবাস করছেন কষ্ট করে। খুবই কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে আমাদের। সার্বিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।




