ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শীতকালীন প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান, শীতবস্ত্র বিতরণ 

জি এম সজল, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১৪ পিএম

দিনাজপুরে সেনাবাহিনীর শীতকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন এবং স্থানীয় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্ৰ বিতরণ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।


মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) ১১ পদাতিক ডিভিশন এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের দায়িত্বপূর্ণ শীতকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান।

শীতকালীন প্রশিক্ষণ পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত বাহিনীরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করে সুখ্যাতি ও প্রভূত সুনাম অর্জন করেছে।


একইসঙ্গে সেনাপ্রধান সৈনিকদের মনোবল উন্নত রেখে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার বগুড়া মেজার জেনারেল মো. খালেদ আল মামুন এবং জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও এরিয়া কমান্ডার রংপুর এরিয়া মেজর জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পরে সেনাধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশন ও ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ডুগডুগিরহাট এলাকা এবং ফুলবাড়ী উপজেলার চকচকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১ হাজার ৮০০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

প্রশিক্ষণকালীন সময়ে সেনাবাহিনী তার জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে অসহায়, দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায় জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দিনাজপুর অঞ্চলের অসহায়, দুস্থ ও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রশিক্ষণ এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণের এই মানবিক কার্যক্রম সর্বস্তরের মানুষের মাঝে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শীতকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পেইন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা যেমন ডায়াবেটিক, হাইপার টেনশন, সংক্রমিত চর্মরোগ, বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগ, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা ও বিশেষ পরামর্শ প্রদান করছে এবং অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা চোখের ছানি, চালসে ও দীর্ঘ দৃষ্টি ইত্যাদি রোগের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং বিনামূল্যে ওষুধপত্র বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক বিনামূল্যে কৃষকবান্ধব ভেটেরিনারি সেবা ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদি পশু ও হাস-মুরগির বিনামূল্যে টিকা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি খামারিদের গবাদি পশু পালন, ব্যবস্থাপনা ও খামার স্থাপন সংক্রান্ত কারিগরি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছে। সেবামূলক এই ক্যাম্পেইনটি খামারিদের মাঝে গবাদিপশু পালনে উৎসাহের সৃষ্টি এবং বেসামরিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

প্রশিক্ষণ পরিদর্শনকালীন ও শীতবস্ত্র বিতরণকালে সেনাসদর ও স্থানীয় ফরমেশনসমূহের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন আরটিভির বার্তা সম্পাদক তাবিবুর রহমান তালুকদার। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও হিমালয় গ্রুপের সহযোগিতায় ভূঞাপুর, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দি বাজারে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় কম্বল পেয়ে খুশি হন ওই এলাকার গরীব-দুস্থ ও অসহায় মানুষরা। আরটিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা মুফাসসির পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখা ব্যাবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহআলম প্রামানিক, সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম তালুকদার, নীড় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান। এ সময় তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছর আমরা দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে হতাশায় নাফিজ (১৮) নামে এক তরুণ মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ওই ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের পিপলস ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা চেষ্টা করা ব্যক্তি হলেন, উপজেলার মথুরাপুর এলাকার ইহান সর্দারের ছেলে নাফিজ।  স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে আত্মহত্যার জন্য নাফিজ ওই টাওয়ারে উঠেন। এ সময় খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নাফিজের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ নানা রকম মতবিনিময় করেন। পরে তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সময় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।  তারা আরও জানান, এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ভালোবাসেন নাফিজ। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লাফিয়ে পড়তে সাহস না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে তাকে আত্মহননের হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশ। এ বিষয়ে ওসি মজিবুর রহমান জানান, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে নাফিজ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে কৌশলে তাকে বুঝিয়ে উদ্ধার করা হয়। 
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান ২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এম খুরশীদ হোসেন বলেন, নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি রয়েছি। আমরা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। গুলশান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস, ফাইভ স্টার হোটেল, সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি। র‍্যাব প্রধান বলেন, ডিএমপি থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থান ও ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলের অনুষ্ঠানে বাধা নেই। মাদকসেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে আমরা মাঠে আছি। সারাদেশে মানুষ উৎসব করবে। কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে তা করতে হবে। সারা বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নববর্ষের ভিন্ন আয়োজন থাকে। তেমনি আমাদের দেশেও গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের চাপ বেশি থাকে। এজন্যই আমরা এসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, তরুণরা গুলশানকেদ্রিক। তারা বিভিন্নভাবে এ এলাকায় আসতে চায়। আমরা কাউকে নববর্ষ উদযাপনে বাধা দিচ্ছি না। আমরা আধুনিকতা পছন্দ করি। কিন্তু এর নামে বেহায়াপনা করলে সেটাও সমাজ মেনে নেবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা পারিবারিকভাবে এটি পালন করতে উৎসাহ দিচ্ছি।
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
মাদারীপুরের ঘটকচর এলাকায় বাসের ধাক্কায় খালে পড়ে ডুবে গেল একটি প্রাইভেটকার। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা তিন যাত্রীসহ চালক আহত হয়েছে।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মওলা রসুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  আহত চালক চাপাইনবাগঞ্জের গোমস্তপুর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামের মিরাজ মণ্ডলের ছেলে জামিরুল ইসলাম মণ্ডল। স্থানীয়রা জানান, একটি পরিবারের তিন সদস্য শনিবার বিকেলে বরিশাল থেকে একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় প্রাইভেটকারটি যখন ওই এলাকায় পৌঁছায়, তখন পিছন থেকে যাত্রীবাহী পরিবহন প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি পাশের একটি খালে পড়ে ডুবে যায়।  তারা আরও জানান, প্রাইভেটকারটি থেকে তিন যাত্রী ও চালককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিল। আহতদের বাড়ি ভোলা জেলায়। তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে যাত্রীরা চলে যায়। এরপর হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।  ওসি মো. গোলাম মওলা রসুল জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। খালে পানি কম থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে যাত্রী ও চালক রক্ষা পেয়েছে। পরিবহনটিকে আটক করা যায়নি। 
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
কুমিল্লায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শতাধিক শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ