
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে শ্মশান কমিটি ও স্থানীয় এক পরিবারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে, তাদের ক্রয়কৃত জমি দখল করেছে শ্মশান কর্তৃপক্ষ। তবে শ্মশান কমিটি বলছে, জমিটি আসলে তাদেরই মালিকানাধীন।
রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে আখাউড়ার কলেজপাড়ার বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আবু মোছা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তার ভাইয়েরা আখাউড়া উপজেলার রাধানগর মৌজায় মোট ৬৫ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ১৬ শতক বিক্রি করা হলেও বাকি জমি তাঁদের দখলে রয়েছে। এ জমির ভিত্তিতে বিএস জরিপে ৬৯৯ নম্বর খতিয়ানও তাঁদের নামে সৃষ্টি হয়।’
অভিযোগে তিনি বলেন, জীবিকার কারণে বিদেশে থাকার সময়ে স্থানীয় শান্তিবন মহাশ্মশান কমিটি তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় ১০.৫৬ শতক জমি দখল করে নেয়। দেশে ফিরে জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলে উল্টো শ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি ২০০৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আখাউড়া সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একাধিকবার আদালতের রায় তাঁর পক্ষে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আবু মোছা আরও বলেন, জমিটির ওপর বর্তমানে বসতবাড়ি, বহুতল ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে। খাজনা, নামজারি, জমাখারিজসহ সব সরকারি নথিপত্রেই তাঁদের মালিকানা বহাল রয়েছে এবং পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সও পরিশোধ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে শান্তিবন মহাশ্মশানের প্রধান পূজারি আশীষ ভ্রম্যচারী বলেন, শ্মশান কারও ব্যক্তিগত জমি দখল করেনি। বরং তারা আমাদের জায়গা দখল করে বসে আছে।
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতশী দর্শী চাকমা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি জায়গা চিহ্নিত করে লাল নিশান দেওয়া হয়েছে।
এটি জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবু মোছা মিয়া তার পরিবারের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরটিভি/এমকে




