
বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ফসলি জমি। বুধবার দুপুরে শুরু হওয়া ভাঙনে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে শিমুলবাড়ি থেকে শহরাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। হঠাৎ এ ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৮টি গ্রামে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বাড়তে থাকায় ভাঙন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শহরাবাড়ি নৌঘাট এলাকার অন্তত ছয়জন ব্যবসায়ীর দোকানপাট নদীতে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন অনেক পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীভাঙনের এই তাণ্ডবের সামনে তারা অসহায়।
এ দিকে ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রোপণ করা ঐতিহাসিক বটগাছটিও, যা বহু বছর ধরে স্থানীয় এলাকার পরিচিত নিদর্শন ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে যমুনার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এলাকাবাসী জানান, এ বিষয়ে একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি হঠাৎ এক মিটার বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ক্ষয়রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধুনট উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম তৌহিদুল আলম মামুন। তার সঙ্গে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের চোখের সামনে সবকিছু নদীতে ভেসে যাচ্ছে, কিছুই করার নেই।
ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।
আরটিভি/এমকে




