
বরগুনার তালতলী উপজেলায় ভাবিকে গলা কেটে হত্যার ১০ বছর পর এবার ছয় বছর বয়সী ভাতিজি নাহিল আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন চাচা হাবিব ওরফে হাবিল খান। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামে। রাতে নিহত শিশুর বাবা মো. দুলাল খান বাদী হয়ে তালতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হাবিল খান দুলাল খানের ছোট ভাই এবং তারা একই বাড়িতে বসবাস করতেন। হাবিল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও মারধর করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে শিশু নাহিল বাড়ির পাশে মুদি দোকানে রুটি কিনতে গেলে হঠাৎ হাবিল পেছন থেকে লাঠি দিয়ে শিশুটির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। এতে শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরে বাবা দুলাল খানসহ স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে পথেই শিশুটি মারা যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া করে একটি বাড়িতে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, হাবিল খান এর আগেও ভয়াবহ একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৫ সালের আগস্টে তিনি বড় ভাই দুলাল খানের প্রথম ভাবি তানিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। শিশু আইনে ৯ বছরের সাজা শেষে তিনি ২০২৪ সালের শুরুর দিকে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির দেড় বছর পরই এবার তিনি বড় ভাইয়ের দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে নাহিলকে হত্যা করেন।
শিশুর বাবা দুলাল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ও আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। ২০১৫ সালে আমার প্রথম ভাবিকে জবাই করে হত্যা করেছিল। এখন আমার ছোট মেয়েকেও মারল। আমার মেয়ের কী দোষ ছিল? আমি তার ফাঁসি চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. টুকু শিকদার ও সালাম হাওলাদার জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া করলে সে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে। তারা আরও জানান, হাবিল আগেও তার ভাবিকে হত্যা করেছিল। এবার ভাতিজিকেও রেহাই দিল না।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মাথার ডান পাশে ও বাঁ হাতের কনুইয়ে গুরুতর জখম ছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, অভিযুক্ত হাবিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ থানায় রাখা আছে। বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
আরটিভি/এমকে




