
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গৃহবধূ জুলেখা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে (১৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা গ্রেপ্তার হয়েছে। তার নাম পারভেজ হোসেন। তিনি নিহত তানহার মামাতো ভাই।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আকতার হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, টাকার অভাবে মামার বাসা থেকে স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে সে তার মামী ও মামাতো বোনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তার কাছ থেকে ৬ ভরি ও তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুটি দোকান থেকে ১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি জানায়, ঘাতক পারভেজ দুইমাস আগে সৌদি আরব থেকে লক্ষ্মীপুরে আসে। সে প্রচণ্ড আর্থিক অভাবে ছিল। অভাবের তাড়নায় সে তার মামার বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ৯ অক্টোবর বিকালে সে বাজার থেকে একটি চাকু কিনে আমড়া ও আপেল নিয়ে তার মামার বাড়িতে যায়। পরে সে তার মামী ও মামাতো বোনকে আমড়া ও আপেল খেতে দেয়৷ পরে সে মীমের সঙ্গে বাসার দ্বিতীয় তলায় যায়। সেখানে মীম তার হাতে ছুরি দেখে চিৎকার দেয়।
এদিকে ছুরির বিষয়টি মীম তার মাকে বলে দিতে পারে, এ ভয়ে সে মীমকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মামী জুলেখাকেও একইভাবে গলাকেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হবার পর বাসায় থাকা সে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পারভেজকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর রামগঞ্জ উপজেলায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা বেগম (৫৫) ও মেয়ে তানহা মীম (২০)। তানহা রামগঞ্জ মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
আরটিভি/এএএ




