
সাত বছর আগে জামালপুরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে আবু বকর সিদ্দিক (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অপহরণের ৯ ঘণ্টা পর পুলিশ সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের মানিকের চর মোল্লাবাড়ি এলাকা থেকে বন্যা খাতুন (২৬) নামের ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ৭টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের মানিকের চর মোল্লাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকা থেকে বন্যা খাতুন (২৬) নামে ওই নারীকে অপহরণ করে তার সাবেক স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার সহযোগীরা।
বন্যা খাতুন নান্দিনা এলাকার চাঁন মিয়ার মেয়ে। বন্যার সাবেক স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৫) সদর উপজেলার তুলশীচর এলাকার দৌহাতলা এলাকার আ্ইয়ুব আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে যায় বন্যা খাতুন। এসময় মানহা তালুকদার ডায়গোনষ্টিক সেন্টারের সামনে পৌঁছালে বন্যা খাতুনের সামনে তার সাবেক স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার সহযোগীরা একটি মাইক্রোবাস নিয়ে পথরোধ করে। পরে ওই মাইক্রোবাস থেকে একজন দ্রুত গতিতে নেমে এসে বন্যা খাতুনকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অপহরণ করে।
এ ঘটনায় অপহৃত বন্যা খাতুনের বাবা চান মিয়া (৫৫) বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ ঘন্টা পর অপহৃত ওই নারীকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের মানিকের চর মোল্লাবাড়ি এলাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বন্যা খাতুনের বাবা চাঁন মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৮ সালে দিকে আমার মেয়ের সাথে আবু বক্করের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আফরান (৫) নামে একটি ছেলেও আছে। কিন্ত বিয়ের তিন বছর পর মিল না হওয়ায় আবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ওদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্কও নাই। আমার মেয়েকে আজ হঠাৎ করে আবু বক্কর ও তার বন্ধুরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করেছে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব জানান, সদর থানা পুলিশ ও বারুয়ামারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের যৌথ অভিযানে অপহৃত নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।
আরটিভি/একে




