
দৃষ্টিহীন জাহাঙ্গীর হোসেন। বয়স ৫০-এর কাছাকাছি। তবুও সব বাধা পেরিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে গাছি হিসেবে কাজ করেন তিনি।
আশপাশের এলাকায় তাল ও নারিকেল গাছ পরিষ্কারের ঝুঁকিপূর্ণ কাজই তার জীবিকার মাধ্যম। ভিক্ষা ভালো না লাগায় দৃষ্টি হারিয়েও পরিশ্রম বেছে নিয়েছেন।
জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করেন। মানুষের গাছ পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত কাজও নিজেই করেন। জাহাঙ্গীরের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামে। মা এবং স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার।
মাত্র তিন বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টি হারান জাহাঙ্গীর। অন্ধ জাহাঙ্গীর গাছ পরিষ্কারের পাশাপাশি জাল দিয়ে মাছও ধরতে পারেন তিনি। এ ছাড়া বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বুসনা তৈরি, কাঠ মিস্ত্রির কাজ, নলকূপ মেরামতসহ সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ পারেন না, এমন অনেক কাজই করতে পারেন তিনি।
বাড়ির পাশে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করেছেন জাহঙ্গীর। চোখে না দেখলেও তিনি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেন এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি তিন বছর বয়স থেকে চোখে দেখি না। চাইলে ভিক্ষাও করতে পারি না। কারণ, আমি একা একা চলতে পারি না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি ভালো ঘর পেলে উপকার হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা খরচের জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ফোকর আহমেদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখি আন্দাজ করে হাঁটেন, গাছে উঠে পরিষ্কার করেন। এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সরকার একটু খেয়াল করলে এই অন্ধ মানুষটার অনেক উপকার হতো।
জাহাঙ্গীরের আরেক প্রতিবেশী সোলায়মান আবিদ বলেন, যেখানে অন্ধ মানুষ চলাচল করতে অন্যের সাহায্যে প্রয়োজন হয়, সেখানে তিনি স্বাভাবিক মানুষের মতন কাজ করে জীবনযাপন করছেন এবং নারিকেল গাছে উঠে গাছ পরিষ্কার করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে সংসার চালান। এটি ধরনের তার সংগ্রামী জীবন এবং বিরল প্রতিভা।
মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম আরটিভি নিউজকে জানান, প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত হলেও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সহায়তা এলে অবশ্যই আমরা তাকে দেব।
আরটিভি/টিআই




