
মুন্সীগঞ্জ শহরের পিটিআই ইনস্টিটিউশনের পরীক্ষণ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্কুল জুড়ে।
অভিযোগের পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক রোমান মিয়াকে ধরে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই উত্তেজনায় বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি পরে সেনা মোতায়েন করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর শিক্ষক রোমান মিয়া ওই ছাত্রীকে বাথরুমে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে সব ঘটনা জানালে সাপ্তাহিক ছুটির পর রোববার (২৩ নভেম্বর) স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ওই শিক্ষকের উপর ফুঁসে ওঠেন। মুহূর্তে তারা বিদ্যালয় ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে ক্ষোভ গিয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ সুপারিনটেনডেন্টের ওপর; তার কার্যালয় ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
এ সময় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি পিটিআই সুপারিনটেন্ডেট মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।
উত্তর ইসলামপুর একজন অভিভাবক শিমু বেগম জানান, আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে স্কুলে পাঠাই। শিক্ষকই যদি এমন অপরাধ করে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা থাকে কীভাবে?
পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানায়।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির জানান, পিটিআইয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের খবর পেয়ে আমরা তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করি এবং হাসপাতালে পাঠাই। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অভিযোগ যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
আরটিভি/এএএ




