
বগুড়ার আলোচিত যুবদল নেতা রাশেদ হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি হান্নান বাটালু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাজেদুর রহমান জুয়েলের একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ফোনালাপে প্রধান আসামি হান্নান বাটালুকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি জাকির ভাইকে (সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি) অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। উনি আমাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছেন। শুধু স্ট্রোক করা বাকি ছিল। শেষে বাধ্য হয়ে আমি রাশেদের দুর্ঘটনা (হত্যা) ঘটাইছি।’
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা বাজারে রাশেদুলের ওপর হামলা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বাটালু, স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা। হান্নান বাটালু সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেনের অনুসারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে এলাকাবাসী তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান বাটালু। অপর দুই পক্ষ পরিচালনা করেন পাকুল্লা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল মাস্টার ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাংশ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাজেদুর রহমান জুয়েল। নিয়ামুল মাস্টার পাকুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির আপন ছোট ভাই। তারই আরেক চাচাতো ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবীর জ্যাকিকে গোপনে পাকুল্লা হাইস্কুলের সভাপতি করেন একটি প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন। সেই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের নেপথ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরের নাম ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এরই জের ধরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বিএনপির জাকিরপন্থি ও স্থানীয় বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীদের মধ্যে।
২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল মোটরসাইকেলের একটি বহর নিয়ে পাকুল্লা বাজারে মহড়া দেন বলে অভিযোগ করে সেদিনই রাশেদের ওপর হামলা চালানো হয়। সে ঘটনায় গুরুতর আহত হন রাশেদ।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, ‘সেদিন সন্ধ্যায় রাশেদ মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বাটালুর নেতৃত্বে লোকজন তাকে ধাওয়া করে। রাশেদ একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেই তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।’
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাশেদ। এর প্রায় এক বছর পর চার্জশিট দিয়েছে সোনাতলা থানা পুলিশ। সেখানে আটজন আসামিকে বাদ দেওয়া হয়। তবে নিহত যুবদল নেতা রাশেদের পরিবার সেই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে নারাজি দিয়েছে।
রাশেদের পরিবারের দাবি, মামলার আইও মূল আসামিদের বাদ দিয়েছে। মোবাইল ফোনালাপে জাকিরের কথা বলছে জাকিরের লোকজনই, তার লোকজনই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে মামলার আইও এসআই শামীম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মামলায় তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় কিছু আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া নিজ দলের কর্মীকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হলেও পাকুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বাটালুর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দলীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশেদের পরিবার।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার সোনাতলায় বিএনপি নেতা হান্নান বাটালু ও তার লোকজনের হামলায় যুবদল নেতা রাশেদুল হাসান (২৭) মারা যান। নিহত রাশেদ সোনাতলা উপজেলা সাইবার ফোর্সের জেলা কমিটির সহসভাপতি, যুবদল পাকুল্লা ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
আরটিভি/এফএ




