
কক্সবাজারের উখিয়ার মাসকারিয়া বিলে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি শিকারে অভিনব প্রতারণার কৌশল ব্যবহার করছিল শিকারিরা। পুরো বিল এলাকায় কর্কশীট স্থাপন, স্পিকারে পাখির ডাক নকল এবং শত শত কৃত্রিম বক (ডিকয়) বসিয়ে পাখিদের ফাঁদে টেনে এনে ধরা হচ্ছিল। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে পাখিশিকারিদের দৌরাত্ম বাড়তে থাকায় অবশেষে মাঠে নামে বন বিভাগ।
শনিবার (০৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উখিয়া রেঞ্জ। অভিযানে ১টি জীবিত শামুকখোল ও ৮টি বক উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বিলজুড়ে পেতে রাখা কয়েক হাজার ফুট নিষিদ্ধ জাল, বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ এবং ৪ শতাধিক কৃত্রিম বক (ডিকয়) জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। শিকারিদের নির্মিত ছোট ঘর ও শিকারি স্থাপনাও ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান। উপস্থিত ছিলেন জালিয়াপালং বিট অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান, দোছড়ি বিট অফিসার ইমদাদুল হাসান রনি, অন্যান্য বিট স্টাফ, ইআরটি ও সিপিজি সদস্যরা।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী পরিযায়ী বা যেকোনো পাখি শিকার করলে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, অতিথি পাখি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/এসকে




