
আগাম শীতকালীন শাক-সবজিতে লাভের পর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার কৃষকরা আবারো সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে তারা আগাম সবজি চাষ করেছেন। এতে ফলন ও লাভ উভয়ই ভালো হয়েছে। এদিকে কৃষকদের আবারো শীতের সবজি চাষে উৎসাহিত করতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় সবকটিতেই কমবেশি সবজির আবাদ হয়। এবার সিংগাইর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয়েছে। জেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে আগাম সবজি। ইতোমধ্যে বাজারে বিক্রি করে ভালো দামও পেয়েছেন কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজির আগাম চাষাবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় একশ হেক্টর বেশি।
সাটুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষের পর কৃষকরা সেই জমিতে আবারো বিভিন্ন জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, বেগুন, মুলা, করলা, পটল, লাল ও পালং শাক, শসা আবাদ করছেন এবং এবারও লাভের আশা করছেন তারা।
সাটুরিয়া উপজেলার কৃষক জহির উদ্দিন বলেন, ‘আগাম চাষ না করলে আয় করার কোনো পথই থাকতো না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও কৃষকদের সহযোগিতা করছে। গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে বেগুনের আবাদ কিছু বেশি করেছি। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।‘
একই উপজেলার কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়াতে এ অঞ্চলের সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কয়েক বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলাসহ নানা সবজি চাষ করেছি। আগাম উৎপাদনের কারণে প্রচুর লাভ হয়েছে, ভবিষ্যতেও ভাল লাভ পাব মনে করি।’
সবজি চাষি তারেক বলেন, বর্তমানে যে আবহাওয়া আছে এরকম আবহাওয়া থাকলে তার জমিতে থাকা ফুলকপির বাম্পার ফলন হতে পারে। এবার ১৫ বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। বাজার দর যদি ভালো পাওয়া যায় তাহলে শীত মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহাজাহান সিরাজ বলেন, সাটুরিয়ায় শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১৮৮ হেক্টর জমিতে। কৃষকরা আগাম শীতকালীন আবাদ করেছেন ৬৫০ হেক্টর জমিতে।
সাটুরিয়ায় ৪২৮ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করেছেন কৃষকেরা। এ ছাড়া শিম ১৫৪, ফুলকপি ১১৮, বাঁধাকপি ৪০, লাউ ৭৭, মিষ্টি কুমড়া ৪৪, শসা ৪০, করলা ৩৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে সবজি আবাদের জন্য কৃষককে গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আগাম সবজি চাষের আশানুরূপ ফলন এবং ভালো বাজার মূল্য পেয়ে কৃষকরা আবারো সবজী চাষে উৎসাহ পাচ্ছেন। কৃষককে উৎসাহিত করতে এবং রোগ-বালাই থেকে শাক-সবজি রক্ষা করতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এছাড়াও আগাম চাষাবাদের কৃষককে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এএএ




