
ঢাকার ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের দীঘল গ্রামে সরকারি খাস খতিয়াভুক্ত জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের প্রতিবাদে শনিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল ঘোড়ামারা বিল ও মোড়া মৌজার বৃহৎ বিল থেকে রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে নেয়ার চেষ্টা করে। এসব মাটি স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রির পরিকল্পনা করছে। এতে এলাকায় পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, ১নং খাস খতিয়াভুক্ত প্রায় ২৯ একর খাস জমি স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনীয় সম্পদ। তাই কোনোভাবেই এই বিলের মাটি কাটতে দেওয়া হবে না।অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপও দাবি করেন। এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থানের কারণে উত্তেজনার কারণে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, যেখানে ভেকু আনছে ভেকু আনা নেওয়ার রাস্তা ঘাট সব সরকারি সম্পত্তি জনগণের ব্যবহারের জায়গা। এগুলা করছে ষাটাপাই গ্রামের জসিম উদ্দিন মোকসেদ মোকলেসুর রহমান দেলোয়ার মাষ্টার আব্দুর রউফ খোরশেদ আলম আর দেলু মাষ্টারের ছেলে আকাশ আরএকজন আছে ষাটপাইগ্রামের দেলু, আমরা এদেরকে দেখছি। এরপরও ৭০-৮০ জন লোক তারা মুখোশধারী তাদেরকে কেউ চিনে নাই। বাইরে থেকা ভাড়া করে আনছে। এদেরকে এরা অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত হইয়া রাতের দিকে, রাত ৭-৮টা পর্যন্ত নেমে সরাসরি ঢুকছে এখানে। বলছে, যেভাবেই হোক এখান থেকে মাটি নিবোই এতে যদি লাশ পরে পরবে পড়ুক আমরা এটি দেখবোনা এরকম হুমকি ধামকি দিয়েছে বহু। শেষ দিকে যখন দেখা যায় ওরা ভেকু দিয়ে কাজ শুরু করেছে এলাকার লোকজন মাইকিং করছে ৪-৫ গ্রামে মাইকিং করছে সাথে সাথে লোকজন আসছে তখন নিজেরা তারা ভেকুর মধ্যে আগুন দিয়ে পলাইছে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে আমরা ধরতে পারিনি।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, আপনারাতো অবগত আছেন, এই জমিটা মোড়া মৌজা এবং মোরারচর দক্ষিণ জিউল গ্রাম, এই সরকারি জমি আশপাশের এলাকাবাসী ভোগ করে। তারাই রক্ষণাবেক্ষণ করে। কিন্তু কিন্তু সন্ত্রাসী এই মাটি খননের চেষ্টা করে। প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি বলতে চাই আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকা অবস্থায় এই বিলে থেকে এক বিন্দু মাটি কাটতে দিবো না।
সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি পুকুর খননে অনুমোদন পাওয়ার পর সেখানে মাটি খননের ভেকু নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এতে ফসলি কৃষি জমি নষ্ট হবে এমন অভিযোগে তাদের বাধা দেয় এলাকাবাসী।
গত ১০ ডিসেম্বর বিকেলের দিকে এ নিয়ে সংঘাতের ঘটনাও ঘটে। রাতে ফের সেখানে মাটি খনন চেষ্টা করলে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সেখানে গিয়ে খননকাজের জন্য আনা ভেকু ও পাশে রাখা একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, এই জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে একটি ভেকু ও মোটরসাইকেল আগুন দেয়। মূলত এক পক্ষকে পুকুর করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কারণ ওই জমিতে কোনো সফল উৎপাদন না হওয়ায় তাদের এই অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল ওই জমির মাটি কোথাও বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু আজকে ড্রাম ট্রাক এবং ভেকু নিয়ে আসলে উত্তেজিত লোকজন আগুন দেয়। তবে উভয় পক্ষকেই আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরটিভি/এএএ




