ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এক উপজেলাতেই মাত্র এক বছরে ৫৮১ তালাক!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
প্রতীকী ছবি

আশঙ্কাজনক হারে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে মাগুরার শালিখায়। মাত্র এক বছরেই এই এক উপজেলাতে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

শালিখা উপজেলার মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকাংশ তালাকের নোটিশ আসছে নারীদের পক্ষ থেকে। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের বয়স সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শালিখা উপজেলার সাত ইউনিয়নে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তালখড়ি ইউনিয়নে ১৪৪টি, শতখালী ইউনিয়নে ১২২টি, গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে ২৪টি, আড়পাড়া ইউনিয়নে ১০৪টি, বুনাগাতী ইউনিয়নে ৬৪টি, শালিখা ইউনিয়নে ৭৯টি ও ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নে ৪৪টি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে এই এক বছরে। একই সময়ে সেখানে সম্পন্ন হয়েছে ১ হাজার ৪২টি বিবাহ।

এর আগের বছর; অর্থাৎ ২০২৪ সালেও এই এক উপজেলায় ঘটেছে ৫ শতাধিক বিবাহ বিচ্ছেদ। শালিখার সাত ইউনিয়নে মোট ৫১১টি তালাকের ঘটনা ঘটেছিল ওই বছর, যেখানে নিকাহ সম্পন্ন হয়েছিল ৮৫২টি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৮টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে শালিখায়।

আরও পড়ুন

২০২৫ সালের তালাকের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছেলে পক্ষ থেকে তালাক হয়েছে ৩৮টি, উভয় পক্ষের সম্মতিতে মিউচুয়াল তালাক হয়েছে ১৯৩টি এবং নারী পক্ষ থেকে ‘ডি’ তালাক হয়েছে ৩৪৮টি, যা পুরুষ পক্ষের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি। তালাকের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে তালখড়ি ইউনিয়ন, আর সবচেয়ে কম বিচ্ছেদ ঘটেছে গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে।

শালিখার আড়পাড়া ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার রোকনুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে রয়েছে পরকীয়া সম্পর্ক। এ ছাড়া পারিবারিক বনিবনার অভাব, স্বামীর দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা কারণও দায়ী।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল (অতি. দা.) বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ রোধে আমরা মাঝে মাঝে উঠান বৈঠক করে থাকি। তবে, এসব বিষয় মূলত ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত।

তালাক বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে শালিখা উপজেলা কোর্ট মসজিদের খতিব মুফতি মোশারফ হোসেন কাসেমী বলেন, ইসলাম নিয়ে অজ্ঞতা, পরকীয়া, পারস্পরিক ভুল-বোঝাবুঝি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে। এর ফলে, সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি মানুষের মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের এই ঊর্ধ্বগতি শালিখা উপজেলার সামাজিক কাঠামোর জন্য একটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, পরিবার ভেঙে গেলে তার প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামাজিক স্থিতিশীলতা, নৈতিকতা ও পারিবারিক বন্ধন মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। বিবাহ বিচ্ছেদ রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বগুড়ায় ট্রাক উল্টে পড়ল প্রাইভেট কারের উপর, নিহত ২
বগুড়ার শাজাহানপুরে একটি প্রইভেট কারের উপর ট্রাক উল্টে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
বগুড়ায় ট্রাক উল্টে পড়ল প্রাইভেট কারের উপর, নিহত ২
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
আরও পড়ুন
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
পাওনা ছয়শ টাকা চাওয়ায় একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম
দেশে আরও এক উপজেলা গঠনের উদ্যোগ
সিএনজিতেই প্রসব, নবজাতককে হাসপাতালের রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা