ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু, যে দৃশ্য কাঁদাল সবাইকে

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ , ১১:২১ এএম


ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু, যে দৃশ্য কাঁদাল সবাইকে
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের সামনে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীতে ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) রাতে নরসিংদী রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- জেলার শিবপুরের কারারচর এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) ও তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেন।

স্বজনরা জানান, সুজন মিয়া কখনো দিনমজুর, কখনো রাজমিস্ত্রির সহযোগী, কখনো অটোরিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন। বুধবার বিকেলে ঈদের কেনাকাটার জন্য কারারচর থেকে নরসিংদী শহরে এসেছিলেন তারা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে আসেন তারা। রেললাইন পার হয়ে হাজেরা টাওয়ারের সামনে থেকে বাড়ির উদ্দেশে অটোরিকশায় উঠার কথা ছিল তাদের।

স্টেশনে এসে তারা দেখেন, ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন দীর্ঘক্ষণ ধরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থেমে আছে। অন্য অনেকের মতো তারাও মহানগরের একটি বগির দরজা দিয়ে উঠে অন্য দরজা দিয়ে নামেন।কোলে হাছেনকে নিয়ে প্রথমে নামেন সাথী বেগম। ৫ বছর বয়সী মেয়ের হাত ধরে বাবা সুজন মিয়া ছিলেন পেছনে পেছনে। ওই সময় আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনের ধাক্কায় কোলে থাকা হাছেনসহ সাথী বেগম ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান।

এ সময় স্ত্রীকে কাঁধে ও আদরের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে সুজন ছুটেন হাসপাতালে। পরে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আহত স্ত্রীকে কাঁধে ও এক হাত দিয়ে ছেলে হাছেনকে বুকে জড়িয়ে ধরে এবং অন্য হাতে মেয়েকে ধরে দ্রুত হাসপাতালে ছুটছেন সুজন।

স্ত্রী-ছেলেকে হারিয়ে হাসপাতাল চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজন মিয়া। তিনি বলেন, চোখের সামনেই আমার অবুঝ শিশুসন্তান আর স্ত্রীকে হারালাম। ডাইরেক্ট ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করছিলাম, আটকানোরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর এক্সপ্রেসের একটি বগির দরজা দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission