মাদক কারবারিদের হামলায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০২:২০ এএম


মাদক কারবারিদের হামলায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যু
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম। ছবি: আরটিভি

নোয়াখালীর সেনবাগে মাদক কারবারিদের হামলায় আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘি-সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার আবুল কালাম হাজী বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হারুন একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

আরও পড়ুন

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল বলেন, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির পেছনের একটি সেতুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলত। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করেন স্থানীয় বেলাল মাস্টার বাড়ির আলী হায়দার ফাহিম (১৮), তাঁর ভাই রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন তরুণ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই মাদকসেবী হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে স্থানীয় তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করেন এবং ওই এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে কয়েক দিন মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত, সাকিবসহ কয়েকজন বাড়ির পাশে বায়তুন আমান মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকালে হারুনের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

দেলোয়ার বলেন, নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টার বাড়ি। এ ছাড়া পাশেই তাঁর খালার বাড়ি। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘি এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ ৭-৮ জন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাম পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূল হোতা হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission