ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

৭ বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন হাজার, আক্রান্ত প্রায় ৮ লাখ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে দুই দশকের অধিক সময় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। মশাবাহিত রোগটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। একই ব্যক্তি ডেঙ্গুতে এক বা একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

সরকারি তথ্য মতে, ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দেশে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়। এই সময়ে আক্রান্ত হন ৫০ হাজার ২০৮ জন। পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জনের মৃত্যু ও ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন আক্রান্ত হন।

এ হিসেবে মৃত্যু ১১ দশমিক ৭১ গুণ ও আক্রান্ত ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০১ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে দাঁড়াল।

চলমান পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ কমাতে না পারা, আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা কম নথিভুক্ত না হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করে রোগী ভর্তি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে আমাদের প্রথমে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন। এডিস মশা বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। যেসব জনগোষ্ঠীর ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালাতে হবে। যেখানে আবর্জনা, পানি জমে থাকে এবং মশার প্রজনন বেশি হয়, সেসব এলাকাকে সেই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।

তাদের মতে, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় তিন স্তরের ব্যবস্থা নিতে হবে-

প্রথমত: কমিউনিটি পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে বা কম খরচে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: যেসব রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের মতো মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

তৃতীয়ত: গুরুতর বা জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঢাকার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে, ব্যাংক ও অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত বিদ্যমান হাসপাতালগুলোকে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

২০১৯ সালের পরে অধিকাংশ বছরেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল আক্রান্তের সংখ্যা কত এ সংক্রান্ত সঠিক রিপোর্ট না থাকা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্যই সরকারি হিসাবে আসে না। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও এর অল্প একটি অংশ নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সরকারকে দেয়।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
প্রতি মঙ্গলবার বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন হয় এই হাসপাতালে 
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মঙ্গলবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে। দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ থেকে পুনরায় এই হাসপাতালে সিজারিয়ান (সিজার) অপারেশন কার্যক্রম চালু হলো।
প্রতি মঙ্গলবার বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন হয় এই হাসপাতালে 
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৮ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জনে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৭৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮২ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৪৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে একই সময়ে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন আরও একজন। ফলে এক দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৮ জনে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫ জন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ছে। আরটিভি/এসকে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
গেল অক্টোবর মাসে রেকর্ড ১৭৪ জনের মৃত্যুর পর আবারও চোখ রাঙানি দিচ্ছে ডেঙ্গু। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
আরও পড়ুন
যে সড়কে প্রাণ গেল মাইশার, সেই সড়কেই জানাজা
কারাগারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতার মৃত্যু
মৃত্যুর আগে ধর্ষণকারীদের নাম বলে গেল সেই স্কুলছাত্রী
সড়কে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর, মোবাইলে লেখা ছিল ‘শরতের ঝরা পাতার মতো মৃত্যু’