
বাংলাদেশে দুই দশকের অধিক সময় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। মশাবাহিত রোগটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। একই ব্যক্তি ডেঙ্গুতে এক বা একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।
সরকারি তথ্য মতে, ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দেশে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়। এই সময়ে আক্রান্ত হন ৫০ হাজার ২০৮ জন। পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জনের মৃত্যু ও ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন আক্রান্ত হন।
এ হিসেবে মৃত্যু ১১ দশমিক ৭১ গুণ ও আক্রান্ত ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০১ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে দাঁড়াল।
চলমান পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ কমাতে না পারা, আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা কম নথিভুক্ত না হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করে রোগী ভর্তি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে আমাদের প্রথমে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন। এডিস মশা বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। যেসব জনগোষ্ঠীর ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালাতে হবে। যেখানে আবর্জনা, পানি জমে থাকে এবং মশার প্রজনন বেশি হয়, সেসব এলাকাকে সেই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।
তাদের মতে, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় তিন স্তরের ব্যবস্থা নিতে হবে-
প্রথমত: কমিউনিটি পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে বা কম খরচে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: যেসব রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের মতো মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
তৃতীয়ত: গুরুতর বা জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঢাকার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে, ব্যাংক ও অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত বিদ্যমান হাসপাতালগুলোকে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
২০১৯ সালের পরে অধিকাংশ বছরেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল আক্রান্তের সংখ্যা কত এ সংক্রান্ত সঠিক রিপোর্ট না থাকা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্যই সরকারি হিসাবে আসে না। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও এর অল্প একটি অংশ নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সরকারকে দেয়।
আরটিভি/এমএম


