ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন হাজার, আক্রান্ত প্রায় ৮ লাখ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে দুই দশকের অধিক সময় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। মশাবাহিত রোগটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। একই ব্যক্তি ডেঙ্গুতে এক বা একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

সরকারি তথ্য মতে, ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দেশে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়। এই সময়ে আক্রান্ত হন ৫০ হাজার ২০৮ জন। পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জনের মৃত্যু ও ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন আক্রান্ত হন।

এ হিসেবে মৃত্যু ১১ দশমিক ৭১ গুণ ও আক্রান্ত ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০১ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে দাঁড়াল।

চলমান পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ কমাতে না পারা, আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা কম নথিভুক্ত না হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করে রোগী ভর্তি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে আমাদের প্রথমে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন। এডিস মশা বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। যেসব জনগোষ্ঠীর ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালাতে হবে। যেখানে আবর্জনা, পানি জমে থাকে এবং মশার প্রজনন বেশি হয়, সেসব এলাকাকে সেই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।

তাদের মতে, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় তিন স্তরের ব্যবস্থা নিতে হবে-

প্রথমত: কমিউনিটি পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে বা কম খরচে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: যেসব রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের মতো মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

তৃতীয়ত: গুরুতর বা জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঢাকার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে, ব্যাংক ও অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত বিদ্যমান হাসপাতালগুলোকে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

২০১৯ সালের পরে অধিকাংশ বছরেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল আক্রান্তের সংখ্যা কত এ সংক্রান্ত সঠিক রিপোর্ট না থাকা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্যই সরকারি হিসাবে আসে না। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও এর অল্প একটি অংশ নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সরকারকে দেয়।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যেখানে চিকিৎসক দরকার সেখানেই পোস্টিং হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের যেসব জায়গায় চিকিৎসকের সংকট রয়েছে সেখানেই পোস্টিং দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘হেমাটোকন : ২০২৬’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আমরা ১৭ টি রেডিও থেরাপি মেশিন স্থাপন করবো। এর মধ্যে ৬ টি ঢাকায়, বাকি ১১ টি ঢাকার বাইরে। তিনি বলেন, সবাই মিলে এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের চেয়ে ভালো দেশ, এত সহযোগী শক্তি আর কোথাও নেই। দেশটাকে ভালোবেসে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, দেশের জন্য লড়াই করেছি। তখন মুক্তিযুদ্ধ আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন আমার চ্যালেঞ্জ, এই মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) জন্য কিছু করা। মন্ত্রী বলেন, যখন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেই, তখন এটি ছিলো পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্থ। ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিনের আমদানি খরচই দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এই দৃশ্য ছিল সবখানেই। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করছি। হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ সভাপতি অধ্যাপক ডা. আমীন লুৎফুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশ- বিদেশের ডাক্তার ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
যেখানে চিকিৎসক দরকার সেখানেই পোস্টিং হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘সাত মাসে ২ কোটি শিশুকে টিকা দিয়েছে সরকার’
সংকট কাটিয়ে বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপে দুই কোটিরও বেশি শিশুর কাছে সফলভাবে টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
‘সাত মাসে ২ কোটি শিশুকে টিকা দিয়েছে সরকার’
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আর ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২০
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩২১ জনের মৃত্যু হলো।
409572
‘কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩২৭
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৩২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩২৭
আরও পড়ুন
ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা
রিহ্যাব সেন্টার থেকে ফিরে যে কাণ্ড ঘটালেন শোভন
কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে রাবিতে ছাত্রদলের মাইকিং