ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা

পাবনা (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ছবি: আরটিভি

পাবনার সাঁথিয়ায় আব্দুর রাজ্জাক মুন্সী (৩০) নামে মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন তার মা।

রোববার (৫ জুলাই) উপজেলার সাঁথিয়া ফকিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রাজ্জাক একই গ্রামের মোনোয়ারা খাতুনের ছেলে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি মাদক সেবনের টাকার জন্য স্ত্রী ও মাকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি করেন। এ ছাড়া মাকে একাধিকবার মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তার মা পারিবারিকভাবে সবার পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রাজ্জাকে আটক করে পুলিশ। এরপর রোববার দুপুরে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিজু তামান্না ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে রাজ্জাককে মাদক বিক্রি ও সেবনের অপরাধে এক বছরের জেল এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এ সময় জরিমানার টাকা না দিতে পারায় তাকে আরও এক মাসের জেল দেওয়া হয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন মেয়ের সঙ্গে কথা হয় বাবার
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ছবির একটিতে থাকা নারী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের সুইটি আক্তার বলে দাবি করেছে তার পরিবার। মেয়ের জীবিত থাকার আশায় সামান্য স্বস্তি মিললেও বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। তবে সুইটি আক্তারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুইটি আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছোট মেয়ে। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের কথা বলে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি স্বজনদের। এ জন্য দালাল নতু মিয়াকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তারা। পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবের মক্কায় ‘আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। দেশটিতে পৌঁছানোর প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সুইটি নিজেই আটকের বিষয়টি তাদের জানান। সুইটি পরিবারকে মারামারির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার কথা জানালেও প্রবাসে থাকা তার এক বান্ধবী পরিবারকে জানান, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এদিকে, মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা জহুরা বেগম। আর নির্বাক বাবা তাকিয়ে আছেন মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুদণ্ডের খবর তাদের মনে গভীর শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। সুইটি আক্তার বেঁচে আছেন কি না, কিংবা তার পরিণতি কী হয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে উদ্বিগ্ন পরিবার। সুইটি আক্তারের বাবা ফজলু মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে তাদের সঙ্গে সুইটির সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এর দুই দিন পর সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এখন মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবরের অপেক্ষায় দিন কাটছে মা-বাবার। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সুইটি আক্তার জীবিত থাকলে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। আর তার মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হোক। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুইটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সুইটির বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ, সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তারা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। আরটিভি/টিআর
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন মেয়ের সঙ্গে কথা হয় বাবার
আরএসজিটি বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড: ঘণ্টায় ৭২ মুভ ও ১২২ টিইইউ’স
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) জাহাজ পরিচালনায় নতুন উৎপাদনশীলতার রেকর্ড গড়েছে আরএসজিটি বাংলাদেশ। সিএমএ সিজিএমের জাহাজ এমভি আমুরো (MV AMOUREUX) পরিচালনাকালে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২ মুভ ও ১২২ টিইইউ'স হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরএসজিটি বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড: ঘণ্টায় ৭২ মুভ ও ১২২ টিইইউ’স
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, ওসি বললেন ‘বাস্তবে কেউ দেখেনি’
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে বোয়ালখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হাসান রুবেল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করেন। ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বোয়ালখালীর মাটিতে প্রথম মিছিল করলাম। শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।’ ভিডিওতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. দিদারুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহুরের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার দেখা যায়। ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিছিলে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। ভিডিওতে প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২০ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, সকালে একটি মিছিলের ঘটনা ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বাস্তবে কেউ দেখেনি, আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি। আসামিদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, শাকপুরা মিলিটারি পুল এলাকায় এই ঝটিকা মিছিল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেউ বলছে সাড়ে ৫টায়, আবার কেউ বলছে ৬টার দিকে হয়েছে। তবে কেউ দেখেনি। আরটিভি/টিআর
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, ওসি বললেন ‘বাস্তবে কেউ দেখেনি’
জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
বরগুনার আমতলীতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে শতাধিক নিবন্ধিত জেলে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন জেলেরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, শিকার ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এ সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০০ জেলের জন্য ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ৩৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন। বাকি ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে, শতাধিক নিবন্ধিত জেলে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। জেলে জালাল, খলিল ও জামাল গাজী জানান, তাদের জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল দেওয়া হয়নি। তালিকায় নাম নেই—এমন অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত নিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে চাল বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে। বিতরণ তালিকার স্বাক্ষর ও টিপসই যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। জেলে জালাল বলেন, আমার জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল পাইনি। তালিকায় নাম নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মতো অনেক জেলে চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন। জেলে খলিল অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৫ জন নিবন্ধিত জেলে চাল পাননি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ও ইউপি সদস্য খবির হোসেন তাদের জানিয়েছেন, তালিকায় তাদের নাম নেই। তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জেলে জামাল গাজী বলেন, আমি নিবন্ধিত জেলে। তারপরও চাল পাইনি। আমার নাম তালিকায় নেই বলে জানানো হয়েছে। নাশির মাল নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ জন নিবন্ধিত জেলে চাল নিতে গিয়ে ফিরে গেছেন। তার প্রশ্ন, নিবন্ধিত জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হলে তারা কেন চাল পেলেন না? তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বশির হাওলাদার। তিনি বলেন, তার ওয়ার্ডে তালিকাভুক্ত ২৭০ জন জেলেকেই চাল দেওয়া হয়েছে। কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। আমতলী খাদ্যগুদামে চাল বিতরণের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন। বাকি চাল খাদ্যগুদামেই রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমতলী খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা (এলএসডি) মো. তাইফুর রহমান বলেন, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের জন্য কত মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি জেনে বলতে হবে। আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল পাননি—এমন কারও অভিযোগ তিনি পাননি। তবে বরাদ্দ, চাল উত্তোলন ও বিতরণ তালিকা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা। আরটিভি/টিআর
জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে।  তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায়, কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে—যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে, জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হওয়ার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। তিনি বলেন, সোমবার একটি অনুষ্ঠান ছিল ঢাকায়। অনুষ্ঠানটি ছিল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল, শত শত ছাত্রকে, শত শত সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে দিয়ে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদের স্মরণে আমরা সোমবার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। ২৪-এ যে শহীদ পরিবার আছে, জুলাই যোদ্ধা যারা আছে, তাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। যে সকল জুলাই যোদ্ধা আহত হয়েছেন, তাদেরকে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। তারেক রহমান বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে সেদিন দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে ২৪-কে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এমনকি জুলাই শহীদদেরকে সম্মান জানানোর জন্য, তাদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ ৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটি প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন চায় একটি স্থিতিশীলতা, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের জনগণ চায় শান্তিতে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সোজা কথায় যদি বলি, বাংলাদেশের জনগণ একদিকে যেমন চায় গণতান্ত্রিক চর্চা করতে, একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ চায় কর্মসংস্থানসহ শান্তিতে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক অধিকার যেমন বাংলাদেশের মানুষ চায়, রাজনৈতিক অধিকারও একই সঙ্গে মানুষ চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জনগণকে তাহলে বিএনপির প্রতি সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। যাতে সেই সকল ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে তারা ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে এই যে রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে বাংলাদেশের দুটি বড় নদী আমাদের, একটি হচ্ছে তিস্তার ওখানে, উত্তরে; আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি। তিনি আরও বলেন, এই পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয়, আমরা চেষ্টা করব। ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আরটিভি/এমএম
দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
অবশেষে আলোর মুখ দেখছে পাবনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
নেশার টাকা না পেয়ে মাকে গলা কেটে হত্যা
কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আজাদ, মুহূর্তেই পিষে দিলো ট্রাক
ঢাকায় আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতা ধরা