ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ পিএম
জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানির নিচে ডুবে আছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি। তলিয়ে গেছে স্কুল, চলাচলের সড়ক, বসতবাড়ি ও বাগান। বন্ধ হয়ে গেছে একটি গ্রামের শিশুদের স্কুলে যাতায়াত। চরম দুর্ভোগে পড়েছে চার গ্রামের মানুষ। প্রশাসনকে জানিয়েও মিলছে না সমাধান।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের শতিপুরী মৌজায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি প্রকৌশল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ বছর আগে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ভেতরে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি সড়ক। ওই সড়ক দিয়ে দুটি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করে।

পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধটির পশ্চিম অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। ছয় মাস আগে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন জমির মালিক দুই ভাই সোনাউল্লাহ ও আমান উল্লাহ। এরপর থেকেই বৃষ্টির পানিতে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এতে শতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সংযোগ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ছড়ারপাড় গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

এ ছাড়া পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে ছড়ারপাড়, উত্তর শতিপুরী, দক্ষিণ শতিপুরী ও ব্যাপারীটারী গ্রামের মানুষ। অনেকের বাড়িতে পানি উঠেছে। আবার অনেকে পানি মাড়িয়ে বাড়িতে যাতায়াত করছেন। বসতবাড়ির বাগানে পানি জমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নষ্ট হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় অনেক বাড়ির স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় এক হাজার একর জমির আমন আবাদ।

শতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন জানান, প্রায় পাঁচ মাস ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়ক ডুবে গেছে। একটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ওঠায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণ করায় চারটি গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি তলিয়ে আছে। এসব জমিতে আর আবাদ করা সম্ভব হবে না। তিনি আরও জানান, পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কৃষক ওসমান গনি জানান, তার বাড়ির বাগানে পানি ওঠায় সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমন ধানের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমিতে পানি থাকায় আমন চাষ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মমেনা বেগম বলেন, বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি উঠেছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারি না, ভেলায় চলাচল করতে হয়। টয়লেট পানিতে ডুবে গেছে। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে চলাচল করায় পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণ করা আমান উল্লাহ জানান, আমাদের আর কোনো জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানে দুই ভাই বাড়ি করেছি।

জলাবদ্ধতার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি নিজে ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। কালভার্টের মুখ খুলে দিতে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
বর্ষা মৌসুম শেষ হয়েছে, কমেনি পদ্মার ভাঙন। এখনও তীব্র স্রোতে নদীতীর ভেঙে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার শেষ সম্বল।
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
জমি বিরোধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ লংগদুতে 
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কিশোরীকে দিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
জমি বিরোধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ লংগদুতে 
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
১৮ মাস আগে নিখোঁজ হয় ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিঝুম খাতুন। নিঝুমের মা মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ‘হ্যাকার সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ওহিদুল মোল্লা (৩২) ও তার সহযোগীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। এমনকি লুকিয়ে থাকার জন্য ব্যবহার করতেন বাড়ির একটি কবুতরের ঘর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে লালপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ওহিদুল মোল্লা লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এলাকায় তিনি ইমো হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ বা ‘সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, মোহরকয়া গ্রামের জহুরুল বিশ্বাসের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), মৃত বেলাল আলীর ছেলে মোতাকাব্বির আলী (২৩), বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০), পানসিপাড়া গ্রামের আধার প্রামাণিকের ছেলে মো. আলামিন (২৩) এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মণ্ডলের ছেলে মুক্তার আলী (৩৪)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়িকে অনেকটা নিরাপত্তাবেষ্টিত করে রেখেছিলেন। বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে আগেভাগেই তা বুঝতে পারতেন তিনি। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যবস্থা ছিল তার থাকার জায়গা। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ঘর। বাইরে থেকে সেটি সাধারণ কবুতরের ঘর মনে হলেও ভেতরে ছিল ওহিদুলের থাকার ব্যবস্থা। সেখানে একটি খাট, দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও ছিল। পুলিশ বলছে, ওই ঘরে বসেই সাইবার অপরাধের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি। অভিযানের সময় ওই ঘর থেকে ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিমগুলো আলাদা করে একটি সাদা কাগজে ছক আকারে লেখা ছিল। কোন সিমে বিকাশ ও কোনটিতে নগদ ব্যবহার করা হতো, তা বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিল। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি সাইবার অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। ওসি বলেন, ওহিদুল গ্রেপ্তার এড়াতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি স্থাপন এবং কবুতরের ঘরের ভেতরে থাকার ব্যবস্থাও তারই অংশ। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুলসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/এসকে
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম
উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে হঠাৎ বেড়েছে রড ও সিমেন্টের দাম। মঙ্গলবার থেকে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে একদিকে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নির্মাণকাজ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কম।  ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে দফায় দফায় বাড়তে থাকে রডের দাম। ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়ে ২০২৩ সালের মার্চে প্রতি টন রডের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে বাড়ে সিমেন্টের দামও। তবে ২০২৪ সালের পর রড-সিমেন্টের দাম তুলনামূলক কমে আসে। এর সঙ্গে কমে যায় নির্মাণকাজ ও চাহিদাও। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নতুন করে বাড়িঘর বা স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে ফরিদপুরে গত প্রায় এক বছর ধরে রড-সিমেন্টের কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতি টন ১ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া রড ২০২৪ সালের শেষ দিকে নেমে আসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকায়। মাঝে দাম ৯০ হাজার টাকার কাছাকাছিও ছিল। সোমবার পর্যন্ত বাজারে কেএসআরএম প্রতি টন ৮৯ হাজার টাকা, বিএসআরএম ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, একেএস ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, সিএসআরএম ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং জেডএসআরএম ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কমেছে। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা কমেছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা বেড়েছে। ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া সিমেন্ট এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, আগে রডের দাম ৯২ হাজার টাকা ছিল। এখন দাম কমে প্রতি টন ৮৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করছি। এক বছর আগে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম ছিল ৪৯০ টাকা, এখন ৫৩০ টাকায় বিক্রি করছি। ব্যবসায়ী নাজিম বলেন, বর্তমানে কেনাবেচা কম। ব্যবসায় অফসিজন চলছে। ফলে রড-সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলক অনেক কম। শীতের সময় নতুন ইট বাজারে উঠলে চাহিদা বাড়তে পারে।  এদিকে ঠিকাদারদেরও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রনি নামে এক ঠিকাদার বলেন, বর্তমানে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান। কিন্তু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত খুবই কম। ফলে ঠিকাদারদের রড-সিমেন্টের প্রয়োজনও কমেছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মানুষের হাতে নগদ অর্থের সংকটের কারণে ইট, বালু, রড-সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমেছে।  তবে আগামীতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে পড়ায় রড-সিমেন্টের বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দিকে নির্মাণকাজ বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে। ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে অনেক পণ্যের দামই নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। তবে কোনো ব্যবসায়ী বাজারমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন কি না কিংবা সিন্ডিকেট করছেন কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তর সজাগ রয়েছে। আরটিভি/এসকে
হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম
আরও পড়ুন
তিন মাসেও কমেনি পানি, জীবন যেখানে ‘জলজ প্রাণীর মতো’
‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণ, ক্যানটিন বয় গ্রেপ্তার 
দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের
ছাদ থেকে লাফ দিলেন আ.লীগ নেতা, অতঃপর...