ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সড়কের গাছ কেটে সাবাড়, নির্বিকার প্রশাসন

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ছবি: আরটিভি

নওগাঁর মান্দা উপজেলার তালপাতিলা-চকউলী এলজিইডি সড়কের পাশে থাকা একাধিক ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাছের মালিকানা, অনুমোদন ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্যে এভাবে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দায় এড়িয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাকি আরও প্রায় ৪০টি গাছ কাটার জোর প্রস্তুতি চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের আলোতেই সড়কের ধারের গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কার অনুমতিতে গাছ কাটা হচ্ছে এবং গাছগুলোর প্রকৃত মালিক কে, সে বিষয়ে কোনো দপ্তরই স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ঘটনাস্থলে থাকা কাঠ ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি তালপাতিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন মরুর কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় এসব গাছ কিনেছেন। ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের কাছে মোট কতটি গাছ কাটা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মো. এমরান হোসেন মরুর জমির সামনে থাকা গাছগুলোই কাটা হবে, যার সংখ্যা আনুমানিক ৪০টি।

ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের দাবি, বিক্রেতা মো. এমরান হোসেন মরু তাকে জানিয়েছেন, গাছগুলো তার নিজস্ব জায়গায় রোপণ করা হয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. এমরান হোসেন মরুর মন্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুঠোফোন নম্বর না থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক আব্দুর রশিদ জানান, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনের মাধ্যমে জেনেছেন। গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের নয়। তবে সড়কটি যেহেতু এলজিইডির, তাই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুল কাদের জানান, সড়কটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো নির্দিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তরের অধীনে লাগানো না হয়ে থাকলে এখানে তাদের আইনগতভাবে কিছু করার নেই। যেহেতু এই জায়গার ওপর কোনো দপ্তরের মালিকানা বা তদারকি নিশ্চিত নয়, তাই বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।

একই সুরে মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, উক্ত গাছ বা বাগানটি বন বিভাগের তৈরি করা নয়। যেহেতু এটি তাদের আওতাধীন নয়, তাই কে বা কারা গাছ রোপণ করেছে কিংবা এখন কাটছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে সাধারণত অনেক সময় জমির মালিকেরা নিজ দায়িত্বে সড়কের পাশে গাছপালা লাগিয়ে থাকেন। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, বিষয়টি আজই জানতে পারলাম। আগামীকালই স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার)-কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। সরেজমিনে তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, পদ ফিরে পেলেন যুবদল নেতা
​নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বীয় পদে বহাল করা হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, পদ ফিরে পেলেন যুবদল নেতা
‘ডিবি পরিচয়ে’ ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে নির্যাতন
পটুয়াখালীর মহিপুরে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক নামে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
‘ডিবি পরিচয়ে’ ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে নির্যাতন
এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল সরদার গ্রেপ্তার
খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের সহযোগী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জয়নাল সরদারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। 
এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল সরদার গ্রেপ্তার
পিকনিক করে ফেরার পথে যে স্লোগান দিয়ে ‘খেসারত’ দিল ৭ শিক্ষার্থী
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে স্কুল ও কলেজের ৭ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্য রাতে থানার পাশে শাহীদ আলী মডেল স্কুলের মাঠ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাত জনই স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীরা হলো- হবিবপুর গ্রামের অনিক দাস (১৮), ডুমরা গ্রামের বর্ষণ তালুকদার (১৮), সৌমিত্র দাস (১৮), দীপ্ত দাস (১৮), অভি সরকার (১৬), দেব দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৬)। আদালত রাতেই সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ক্লাবের ফুটবল খেলা উপলক্ষে কয়েক জন শিক্ষার্থী শুক্রবার রাতে শাল্লা উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে খাবারের আয়োজন করেছিল। খাবার খাওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার সময় শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় এমনিতেই তারা মনের আনন্দে এই স্লোগান দেয়।  স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে, স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে ও পরে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে তাদের সুনামগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট সকিনা আক্তার গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের শাল্লা জোনের জি.আর.ও এএসআই মো. আবুল কাশেম। এদিকে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা কেউই কোনো ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। সবাই স্কুল-কলেজের নিয়মিত ছাত্র। তারা বন্ধু-বান্ধবরা মিলে একসঙ্গে রাতের খাবার শেষে এমনিতেই এই স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় আসামি করে আদালতে প্রেরণ করে। এখন সবার স্বজনরা দুশ্চিন্তায় আছেন। বর্ষণ তালুকদারের বাবা অনাদি তালুকদার বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না, রাজনীতি বুঝে না। কিন্তু পুলিশ স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদেরকে কারাগার থেকে মুক্ত করার বিষয়ে আমরা আইনজীবীর সাথে কথা বলছি।   স্কুল ছাত্র অভি সরকারের বাবা বাদল সরকার বলেন, আমার ছেলে হাই স্কুলে পড়ে, সে রাজনীতির কী বুঝে। তারা নাকি কয়েক জন মিলে ওই স্লোগান দিয়েছে, এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার রাতে আদালতে প্রেরণ করেছে। ছেলেকে নিয়ে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় আছি। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা শুক্রবার রাতে রাজনীতি নিষিদ্ধ সংগঠনের স্লোগান দিয়েছে ও মিছিল করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্কুল ছাত্রদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে জানতে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগেই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বয়স যদি কম হয়ে থাকে আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  আরটিভি/এসএস
পিকনিক করে ফেরার পথে যে স্লোগান দিয়ে ‘খেসারত’ দিল ৭ শিক্ষার্থী
শিশুকে দোকানে নেওয়ার পর নিজেকে আর ‘ধরে রাখতে পারলেন না’ বৃদ্ধ
পাবনা সদর উপজেলায় শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলায় ১১ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম (৫০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে।
শিশুকে দোকানে নেওয়ার পর নিজেকে আর ‘ধরে রাখতে পারলেন না’ বৃদ্ধ
আরও পড়ুন
মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১১ নেতাকর্মী আটক
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
এক মাসে ২৬ বাড়িতে চুরি, বাদ যায়নি মসজিদের ব্যাটারিও
সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি