সড়কের গাছ কেটে সাবাড়, নির্বিকার প্রশাসন

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ১১:০৩ পিএম


সড়কের গাছ কেটে সাবাড়, নির্বিকার প্রশাসন
ছবি: আরটিভি

নওগাঁর মান্দা উপজেলার তালপাতিলা-চকউলী এলজিইডি সড়কের পাশে থাকা একাধিক ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাছের মালিকানা, অনুমোদন ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্যে এভাবে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দায় এড়িয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাকি আরও প্রায় ৪০টি গাছ কাটার জোর প্রস্তুতি চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের আলোতেই সড়কের ধারের গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কার অনুমতিতে গাছ কাটা হচ্ছে এবং গাছগুলোর প্রকৃত মালিক কে, সে বিষয়ে কোনো দপ্তরই স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ঘটনাস্থলে থাকা কাঠ ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি তালপাতিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন মরুর কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় এসব গাছ কিনেছেন। ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের কাছে মোট কতটি গাছ কাটা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মো. এমরান হোসেন মরুর জমির সামনে থাকা গাছগুলোই কাটা হবে, যার সংখ্যা আনুমানিক ৪০টি।

ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের দাবি, বিক্রেতা মো. এমরান হোসেন মরু তাকে জানিয়েছেন, গাছগুলো তার নিজস্ব জায়গায় রোপণ করা হয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. এমরান হোসেন মরুর মন্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুঠোফোন নম্বর না থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক আব্দুর রশিদ জানান, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনের মাধ্যমে জেনেছেন। গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের নয়। তবে সড়কটি যেহেতু এলজিইডির, তাই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুল কাদের জানান, সড়কটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো নির্দিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তরের অধীনে লাগানো না হয়ে থাকলে এখানে তাদের আইনগতভাবে কিছু করার নেই। যেহেতু এই জায়গার ওপর কোনো দপ্তরের মালিকানা বা তদারকি নিশ্চিত নয়, তাই বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।

একই সুরে মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, উক্ত গাছ বা বাগানটি বন বিভাগের তৈরি করা নয়। যেহেতু এটি তাদের আওতাধীন নয়, তাই কে বা কারা গাছ রোপণ করেছে কিংবা এখন কাটছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে সাধারণত অনেক সময় জমির মালিকেরা নিজ দায়িত্বে সড়কের পাশে গাছপালা লাগিয়ে থাকেন। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, বিষয়টি আজই জানতে পারলাম। আগামীকালই স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার)-কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। সরেজমিনে তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission