ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার

আরিফুল হক সোহাগ, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ছবি: আরটিভি

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।

শতবছর আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বা দ্রুতগতির যানবাহনের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। মেঠোপথ ধরে হেঁটে কিংবা গরুর গাড়িতে চড়ে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রায় বের হতো। তৎকালীন সময়ে বণিক খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ ব্যবসার তাগিদে দূরদূরান্তে ঘুরে বেড়াতেন। ভারতের কলকাতায় প্রথম মুসাফিরখানা দেখে তিনি নিজ জন্মভূমিতেও এমন একটি সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন দেখেন।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯০৮ সালে নওগাঁর পোরশার সদর এলাকার মিনা বাজারে নিজের বাসভবনের পাশে মাটির দেওয়াল ও টিনের চালে চার কক্ষের এক ছোট্ট মুসাফিরখানা গড়ে তোলেন। এই নিঃস্বার্থ সেবা চিরসচল রাখতে তিনি তার ৮০ বিঘা জমি দান করে যান। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে সেই সম্পত্তির অর্জিত আয় থেকেই আধুনিক দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় অনেক কিছুই বদলে গেলেও বদলায়নি এই প্রতিষ্ঠানের অতিথিপরায়ণতার চিত্র।

পোরশা উপজেলা সদর বা আশপাশে বাণিজ্যিক কোনো আবাসিক হোটেল না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারী ও ব্যবসায়ীদের একমাত্র আস্থার স্থান এই মুসাফিরখানা। বর্তমানের দ্বিতল এই ভবনটিতে মোট ১৬টি কক্ষ ও একটি বড় হলরুম রয়েছে। যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০ জন অতিথির থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অবস্থান করার ক্ষেত্রে কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। যেকোনো ধর্ম ও বর্ণের যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত এখানে থাকতে পারেন। অতিথিদের সার্বিক দেখভালের জন্য একজন ম্যানেজার ও দুজন কর্মচারী নিয়োজিত আছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি বুধবার দুপুরে বিনামূল্যে বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন যারা এখানে রাত যাপন করেন, তাদের খাবার গ্রহণের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। মুসাফিরখানায় অবস্থানরতরা দুপুরে খেতে চাইলে সকাল ৯টার মধ্যে এবং রাতে খেতে চাইলে বিকেল ৪টার মধ্যে ম্যানেজারকে জানাতে হয়। তবে অতিথিদের নিজেদের বিছানা নিজেদেরই প্রস্তুত করতে হয় এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোও তাদের নিজ দায়িত্বে দেখাশোনা করতে হয়।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এখানে আগতদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন খাদেম মোসলেম উদ্দিন। প্রতিদিন ছায়া খুঁজে পাওয়া ৬-৭ জন পথিকের থাকার পাশাপাশি দুপুর ও রাতের খাবারের নিয়মও বেশ সুনির্দিষ্ট।

তিনি জানান- যারা থাকেন, নিজেদের বিছানা তাদের নিজেদেরই প্রস্তুত করে নিতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোও তাদেরই দেখভাল করতে হয়। প্রতিদিনই ছয়-সাতজন বিনা খরচে এখানে রাত যাপন করেন। দুপুরে খেতে চাইলে সকাল নয়টা আর রাতে খেতে চাইলে বিকেল চারটার মধ্যে জানাতে হয়।

মুসাফিরখানার প্রতিষ্ঠাতার বংশধর ষাটোর্ধ্ব ফারুকুজ্জামান শাহ বলেন- খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ আমার দাদার আপন বাবা। এই মুসাফিরখানায় যে কেউ থাকতে পারে, যেকোনো ধর্মের, যেকোনো বর্ণের। এখানে তিন দিন থাকা ফ্রি। আগে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো, এখন প্রতি বুধবার দুপুরে বিনামূল্যে খাবার খাওয়ানো হয়। এই মুসাফিরখানার সম্পত্তি থেকে যে আয় আসে, সেটা দিয়েই এটি পরিচালিত হয়। অতিথিদের সার্বিক দেখভালের জন্য একজন ম্যানেজার ও দুজন কর্মচারী আছেন।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই এই মুসাফিরখানা দেখে আসছেন এবং মুরব্বিদের মুখে এর ইতিহাস শুনেছেন। অতীতে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথে গরুর গাড়িতে যাতায়াতের সময় বিপদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ এখানেই আশ্রয় নিত। দূরদূরান্ত থেকে আসা অতিথিরা জানান, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাড়ায় থাকার মতো কোনো আবাসিক হোটেল না থাকায় বিনা খরচে এমন থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সত্যিই কল্পনাতীত। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও সেবার মান অতিথিদের মুগ্ধ করে।

প্রতিষ্ঠাতা খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ আজ আর বেঁচে নেই, তবে তার দূরদর্শী চিন্তায় রোপিত মানবতার বীজটি আজও বরেন্দ্রভূমির বুকে ছায়া দিয়ে চলেছে শত শত ক্লান্ত পথিককে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
আরও পড়ুন
রাতের আঁধারে সার পাচারের সময় হাতেনাতে ধরল এলাকাবাসী
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁয় ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’: কাগজের ভাঁজে আবেগের রঙিন প্রকাশ
নারীর সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে চাঁদা দাবি, ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে বড় বিপাকে আনোয়ার