প্রেমিকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৪ এএম


প্রেমিকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন
প্রেমিকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে একসঙ্গে অনশন করছেন দুই নারী।

নাজমুল ইসলাম (৩০) উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকার আমবাজ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকেই নাজমুল পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে ওই দুই নারীর আলাদাভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি প্রবাসে থাকাকালীনও দুই নারীর সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। গত ৪ জুলাই ছুটিতে দেশে ফিরে প্রথমে কামরাবাদ ইউনিয়নের হেলেঞ্চা বাড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে করুনা খাতুনকে বিয়ে করেন নাজমুল। এর মাত্র তিন দিন পর, ৭ জুলাই কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের আব্দুল জলিলের মেয়ে জুলেখা খাতুনকেও বিয়ে করেন তিনি।

জানা গেছে, দুই বিয়ের পরই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান নাজমুল। পরবর্তীতে দুই স্ত্রীই স্বামীর খোঁজে শ্বশুরবাড়ি এসে দেখেন নাজমুল উধাও। কোনো উপায় না দেখে গত এক সপ্তাহ ধরে তারা সেখানে একসঙ্গে অনশন শুরু করেন। নাজমুল ইতিপূর্বেও একটি বিয়ে করেছিলেন এবং বিদেশ যাওয়ার আগে তাকে তালাক দেন।

নাজমুলের বাবা আমবাজ আলী জানান, হেলেঞ্চা বাড়ির মেয়েটির সঙ্গে পূর্বে নাজমুলের বিয়ের আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু তখন বিয়ে না করে অন্যত্র বিয়ে করে এবং তালাক দিয়ে সে বিদেশে চলে যায়। শুনছি বিদেশ থেকেও নাকি মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল এবং দেশে এসে আমাদের না জানিয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে।

অন্যদিকে নাজমুলের মা শাহনাজ বেগম জানান, দ্বিতীয় মেয়েটি তার ছোট পুত্রবধূর বড় বোন। তিন-চারদিন আগে মেয়েটির মা এসে তাকে তাদের বাড়িতে রেখে গেছেন। এখন তারা কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

অনশনরত দুই নারীই জানান, তারা একে অপরের বিয়ের ব্যাপারে জানতেন। নাজমুল তাদের দুজনকেই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছে। এখন স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব না নিয়ে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা জানান, নাজমুলকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য বিয়ে করেননি। সে দুজনকেই নিয়ে সংসার করবে, নাকি একজনকে নিয়ে—সেই সিদ্ধান্ত নাজমুলকেই নিতে হবে।

অভিযুক্ত নাজমুলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক প্রেমিকের বাড়িতে দুই স্ত্রীর এমন অনশনের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।

সরিষাবাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission