পঞ্চগড়ে সনদ-সংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার ২২ বছর ধরে সনদ জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত না হলেও চলতি বছরের জুন মাসে একই সনদের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত হয়েছেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ। এ ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হকের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্তির জন্য কয়েক দফায় আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে তিনি রাজধানী ঢাকার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত এমবিএ ডিগ্রির সনদ দাখিল করেন। কিন্তু ২০২০ সালের ২৬ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫৭.০৩.০০০০.০২৮.১৮.০১১.১৮-৫৭৭ নম্বর স্মারকের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ একরামুল হকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এবং তার এমবিএ সনদটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত নয়। একই সঙ্গে তার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাও ছিল না।
এমপিও নীতিমালা-১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক পদে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। এছাড়া স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাগত সনদ যাচাইকৃত ছিল না, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র ও ছাড়পত্রও ছিল না। এসব কারণে সে সময় অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরবর্তীতে একই সনদের ভিত্তিতে তিনি কীভাবে এমপিওভুক্ত হলেন, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজে গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ একরামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সমস্ত কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেই অধিদপ্তর থেকে আমি এমপিওভুক্তির চিঠি পেয়েছি।
তবে ২০২০ সালে তার এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ থাকার পরও কীভাবে তিনি এমপিওভুক্ত হলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, পরে অধিদপ্তর থেকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো পরিপত্র বা দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মন্তব্য করব।
আরটিভি/এমএইচজে




