চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদ, ইমন ও রায়হান বাহিনীর পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজিমুল হক।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত নিরাপদ রুট ও আশ্রয়স্থলগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, রোববার (২৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরে অভিযান মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪) নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐ দুই ব্যক্তি নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারেন ডেভিড ইমন ঢাকায় অবস্থান করেছেন। পরে তিনি যশোরের দিকে চলে গেলে বুধবার জেলার ঝিকরগাছায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাজ্জাদ বাহিনী, ইমন বাহিনী ও রায়হান বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এবং রাউজান-রাঙ্গুনিয়া-ফটিকছড়ি সংলগ্ন পার্বত্য এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের চলাচল, অস্ত্র মজুত ও আত্মগোপনের করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসব এলাকাকে এখন বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মো. নাজিমুল হক বলেন, গত দুই মাসে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অস্ত্রসহ একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও পৃথক অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে সফল হয়েছে। আলোচিত ধামাই ইলিয়াস ও সর্বশেষ ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাস দমনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, এপিবিএনের চারটি ক্যাম্প নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী চেকপোস্ট ও রোড ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/টিআর




