
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের চার বন্ধু একসঙ্গে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
এ চার মেধাবী শিক্ষার্থী হলেন— ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ, কামরুল আল ফাহিম, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব ও কেয়া বণিক প্রিয়া।
ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ থেকে, কামরুল আল ফাহিম চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ থেকে, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এবং কেয়া বণিক প্রিয়া বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন।
তাদের চিকিৎসক হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময়ের কঠোর অধ্যয়ন, নিয়মিত পরিশ্রম, পরীক্ষার চাপ ও নানা ত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা এগিয়ে গেছেন। তাদের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নিরলস সমর্থন, পরিবারের ত্যাগ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজেদের অদম্য প্রচেষ্টা।
ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ, কামরুল আল ফাহিম, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব ও কেয়া বণিক প্রিয়া বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের পর এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মাধ্যমিকে পড়ার সময় চার বন্ধু সবসময় একসঙ্গে আড্ডা দিতাম, প্রাইভেট পড়তাম। তখন থেকেই আমাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। স্বপ্ন ছিল একদিন ডাক্তার হব। উচ্চ মাধ্যমিকে ভিন্ন কলেজে পড়লেও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। পরে সবাই এমবিবিএসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। এ অর্জনের পেছনে বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের অবদান সবচেয়ে বেশি। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করতে চাই।
ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চার বন্ধুর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একই সময়ে চিকিৎসক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ও পেয়েছে বিশেষ গৌরব।
কামরুল আল ফাহিমের মা মোরশেদা বেগম বলেন, আমাদের প্রচেষ্টায় ও অনুপ্রেরণায় চার বন্ধুর স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তারা ডাক্তার হয়েছে। এখন আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের সন্তানরা যেন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের চার শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা বিদ্যালয়ে থাকাকালীনই মেধা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তাদের এ অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতে দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে এবং দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি পুরো বিদ্যালয় ও এলাকার গর্বের বিষয়। এ অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত গাইডলাইন দিতে হবে। একই বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষার্থী চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিঃসন্দেহে ফটিকছড়ির জন্য একটি অনন্য ও গৌরবের অর্জন।
আরটিভি/এমএইচজে




