বিলুপ্তির পথে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ

বান্দরবান প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ০৭:২৬ পিএম


বিলুপ্তির পথে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ
বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ। ছবি: আরটিভি

পার্বত্যাঞ্চলে অবাধে বাঁশকোড়ল (চারাবাঁশ) সংগ্রহ এবং নির্বিচারে বাঁশ নিধনের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশ বিলুপ্তির পথে। গত ২০ থেকে ২৫ বছর আগেও বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রাকৃতিক পেঁয়াবাঁশ, মূলিবাঁশ, মিতাবাঁশ, ওড়াবাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বাঁশের জন্য এ অঞ্চল সুপরিচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের নিয়মনীতি ছাড়াই বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার, বাজারজাতকরণ এবং নির্বিচারে বাঁশ কাটার ফলে এসব বাঁশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চল কেটে আগুনে পুড়িয়ে জুমচাষের জমি তৈরির কারণেও প্রাকৃতিক বাঁশবন ধ্বংস হচ্ছে। ফলে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে মূল্যবান এই বাঁশসম্পদ। ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে এসব বাঁশ ব্যবহৃত হয়।

পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে বাঁশকোড়ল একটি জনপ্রিয় খাদ্য। তারা বিভিন্নভাবে রান্না করে এটি সবজি হিসেবে খেয়ে থাকেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বাঁশকোড়ল যেমন সুস্বাদু, তেমনি স্বাস্থ্যকরও। শুধু পাহাড়িরাই নন, অনেক বাঙালিও বাঁশকোড়ল খেতে পছন্দ করেন।

স্থানীয়ভাবে বাঁশকোড়লের বিভিন্ন নাম রয়েছে। মারমা সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘মেহ্যাং’, ত্রিপুরাদের কাছে ‘মেওয়া’, চাকমা ভাষায় ‘বাচ্ছুরি’ এবং তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘বাচ্ছুই’ নামে পরিচিত। মূলত বাঁশের গোড়া থেকে গজিয়ে ওঠা কচি ও নরম অংশই বাঁশকোড়ল নামে পরিচিত।

বন বিভাগ প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য বাঁশকোড়ল সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। ফলে বাঁশের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।

পাহাড়ি সাংবাদিক শৈহ্লাচিং মারমা বলেন, পাহাড়িদের কাছে বাঁশকোড়ল অত্যন্ত সুস্বাদু একটি খাবার এবং তারা এটি নিয়মিত সবজি হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই।

তিনি বলেন, বাঁশকোড়ল সংগ্রহ বন্ধ না হলে নতুন বাঁশ গজানোর সুযোগ নষ্ট হবে। ফলে ভবিষ্যতে বাঁশের সংখ্যা কমে যাবে এবং বাঁশনির্ভর বিভিন্ন শিল্প ও প্রয়োজনীয় কাজে এর সংকট দেখা দেবে। বাঁশকোড়ল সংগ্রহ ও বাঁশ নিধন বন্ধে স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাস সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ সময় বাঁশের বংশবিস্তারের মৌসুম হওয়ায় বাঁশকোড়ল সংগ্রহ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বন বিভাগের উদ্যোগে প্রতিটি রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয়দের বোঝানো হচ্ছে যে, বাঁশকোড়ল সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে তারাই বেশি উপকৃত হবেন এবং প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশসম্পদও রক্ষা পাবে।

তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের মূল্যবান বাঁশসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন বাঁশবন গড়ে তুলতেও বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission