
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দীতে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালের বিচারক শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বালিয়াকান্দি উপজেলার পাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী খোদেজা বেগম। মামলায় ভুক্তভোগী মেয়ের বয়স ঘটনার সময় ১৬ থেকে ১৭ বছর উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে আসামি তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগও মামলায় আনা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।
মামলাটি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মেডিকেল প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আনিছুর রহমান।
তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
আরটিভি/এমএইচজে




