ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ভক্তরা বাঁশ নিয়ে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন : ছবি আরটিভি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। প্রতি বছর এ দরবারে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক উরস শরীফ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের উরস ও বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে আসতে শুরু করেছে বাঁশের বিশাল ভেলা। ভক্তদের কাছে এসব বাঁশ ‘নজরানা’ বা খেদমতের অংশ। কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার বাঁশ একসঙ্গে বেঁধে তৈরি করা হয় এসব ভেলা। এরপর দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে স্রোত, নাব্যতা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ভেলাগুলো পৌঁছে যায় আটরশি দরবারে।

দরবার-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে খাজাবাবা ফরিদপুরীর নির্দেশে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় প্রথম ‘নজরানার বাঁশ’ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে মাত্র দুটি ভেলা এ যাত্রায় যুক্ত ছিল। প্রথমদিকে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ভেলা ছাড়া হলেও পরে চিলমারী ঘাটকে কেন্দ্র করে এ নৌযাত্রা নিয়মিত হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এই প্রথা।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও নরসিংদী, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে ভক্তরা বাঁশ নিয়ে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অনেক এলাকায় উরসের কয়েক মাস আগে থেকেই বাঁশ সংগ্রহ ও ভেলা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়।

একেকটি বড় ভেলায় থাকে ২ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত বাঁশ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার উপযোগী করে বাঁশগুলো বিশেষ কৌশলে বাঁধা হয়। ভেলার ওপর তৈরি করা হয় ছাউনি বা অস্থায়ী ঘর। সেখানে ভক্তদের থাকা, রান্নাবান্না ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকে। প্রতিটি ভেলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ভক্ত থাকেন। ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পরিবর্তে লগি, বৈঠা ও নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়েই এগিয়ে চলে এসব ভেলা।

কুড়িগ্রামসহ দূরবর্তী জেলা থেকে এসব ভেলা নিয়ে আটরশি দরবারে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। দীর্ঘ এই সময়ে ভক্তরা ভেলার ওপরই অবস্থান করেন। সেখানে খাবার তৈরি ও বিশ্রামের পাশাপাশি ইবাদত, জিকির, হামদ-নাত ও মোর্শেদি গানে সময় কাটান তারা।

তবে এই নদীযাত্রা মোটেও সহজ নয়। ভেলাগুলোকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া, যমুনা, পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও কুমারসহ বিভিন্ন নদী ও খাল পাড়ি দিতে হয়। কোথাও নাব্যতা কম থাকলে ভেলা টেনে নিতে হয়, কোথাও কচুরিপানা কেটে পথ তৈরি করতে হয়। আবার প্রবল স্রোতের বিপরীতে বৈঠা চালিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াও দীর্ঘ এই যাত্রার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভেলা তৈরি এবং দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে তা দরবারে পৌঁছে দেওয়া—পুরো প্রক্রিয়াটিই ভক্তরা খেদমত হিসেবে করেন। এ কাজে তারা বাঁশের কোনো মূল্য নেন না, এমনকি নিজেদের শ্রমের জন্যও কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না। অর্থাৎ বাঁশ সংগ্রহ, ভেলা তৈরি ও পরিবহনের পুরো কাজটি সম্পন্ন হয় স্বেচ্ছাশ্রমে। দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভেলা আটরশি দরবারে পৌঁছালে ভক্তরা মানসিক তৃপ্তি পান বলে জানান।

আটরশি দরবারে পৌঁছানোর পর এসব বাঁশ উরসের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। সামিয়ানা ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, সাজসজ্জাসহ অন্যান্য আয়োজনে ব্যবহারের পাশাপাশি বাঁশের কিছু অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

দরবার-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাঁশের ভেলা নিয়ে যাত্রার জন্য খাজাবাবা ফরিদপুরী একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বাংলা আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম বুধবার জলসা এবং বৃহস্পতিবার উষালগ্ন থেকে ভক্তরা ভেলা নিয়ে দরবারের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

মাত্র দুটি ভেলা দিয়ে ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া এই নদীযাত্রা ৫১ বছর পরও ধরে রেখেছে তার ঐতিহ্য। নদীর স্রোত, নাব্যতা ও দীর্ঘ পথের বাধা পেরিয়ে প্রতিবছর ভক্তদের বহন করে আটরশি দরবারে পৌঁছে এসব বাঁশের ভেলা। পরে সেই বাঁশই ব্যবহৃত হয় উরসের নানা আয়োজনে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জমি নিয়ে বিরোধের বলি ৭ হাজার ফুলকপির চারা
মুন্সীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে এক কৃষকের প্রায় ৭ হাজার ফুলকপির চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে তার আপন দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক কাশেম মীর।
জমি নিয়ে বিরোধের বলি ৭ হাজার ফুলকপির চারা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের দুর্ব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন
শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ব্যবহার, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা ও মানববন্ধনের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের দুর্ব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন
৫১ লাখ নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও স্ত্রী, সব হারিয়ে রিকশা চালান মোস্তফা
ঝালকাঠির রাজাপুরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫১ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন হাফেজ মোস্তফা ফরাজী নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ১৩ বছর দুবাইয়ে প্রবাসজীবন কাটিয়ে উপার্জিত অর্থ হারিয়ে বর্তমানে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৫১ লাখ নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও স্ত্রী, সব হারিয়ে রিকশা চালান মোস্তফা
আমাদের লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রীষ্মের আগেই ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন: বিদ্যুৎমন্ত্রী
রাজশাহীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সংকটে পড়েছে জ্বালানি খাত, তাই আমাদের সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌরবিদ্যুৎকে বেছে নিয়েছে। জনসম্পৃক্ততায় যত বেশি সোলার লাগানো যাবে তত বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হলো আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন।
আমাদের লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রীষ্মের আগেই ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন: বিদ্যুৎমন্ত্রী
নিখোঁজের ২ দিন পর বাড়ির পাশের ডোবায় মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নিখোঁজের দুদিন পর মোসা. ইসরাত জাহান যুথি (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের ২ দিন পর বাড়ির পাশের ডোবায় মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ
আরও পড়ুন
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন