বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে বগালেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে ফেরার পথে মোটরসাইকেল গভীর খাদে পড়ে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে বগালেক-কেওক্রাডং সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ভোলা জেলার মানিকারহাট এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জামির উদ্দিন (৩২) এবং ঢাকার লালবাগ এলাকার চুন্নু গাজীর মেয়ে রোকাইয়া আক্তার (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ সদস্যের একটি পর্যটক দল বগালেকে বেড়াতে আসে। তাদের মধ্যে আটজন একটি কটেজে অবস্থান করলেও জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার গাইডের নির্দেশনা অমান্য করে রাতে মোটরসাইকেলে কেওক্রাডং এলাকার দিকে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে ঢালু সড়কে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা গভীর খাদে পড়ে নিখোঁজ হন।
বিষয়টি জানার পর গাইড মো. ইসমাইল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগালেক আর্মি ক্যাম্পে খবর দেন। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে গভীর রাতে বগালেক ভিউ পয়েন্টসংলগ্ন পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে ১০ জন পর্যটক ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হয়ে রুমা উপজেলায় পৌঁছান। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা বগালেক এলাকায় একটি কটেজে ওঠেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সবাই বগালেক ভিউ পয়েন্টে ঘুরতে যান। সেখানে ছবি তোলা শেষে আটজন ফিরে এলেও জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার গাইডের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি মোটরসাইকেলে ভিউ পয়েন্ট অতিক্রম করে সামনে চলে যান। এরপর ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, বগালেক ভিউ পয়েন্ট এলাকার পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।




