কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাত্র এক শতাংশ জমিতে তৈরি একটি ব্যতিক্রমী বসতঘর ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ৮৫ ফুট লম্বা ও মাত্র ৫ ফুট চওড়া এই ঘরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন।
ঘরটির মালিক সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শাহজালাল। দাউদকান্দি উপজেলার স্বল্পপেন্নাই গ্রামে ডোবা ভরাট করে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়ার এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়। এটিই বর্তমানে শাহজালালের পরিবারের একমাত্র বসতঘর।
শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। তখন শাহজালাল দেশে মাইক্রোবাস চালাতেন। পরে তিনি ইরাকে যান এবং কয়েক বছর পর দেশে ফিরে আসেন। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রবাস থেকে পাঠানো টাকায় চলতি বছরের জুন মাসে এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়।
তিনি জানান, ২০১৬ সালে শাহজালাল তার বাবার কাছ থেকে এক শতাংশ নিচু জমি কেনেন। একই সময়ে পৈত্রিক ভিটায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে জায়গা নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলা চালাতে গিয়ে শাহজালাল প্রায় সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন। একসময় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কখনো স্বজনদের বাড়িতে, আবার কখনো খোলা আকাশের নিচেও থাকতে হয়েছে তাদের।
মাত্র ৫ ফুট চওড়া হলেও ঘরটিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবেশমুখে রয়েছে রান্নাঘর, এরপর খাবার রাখার জায়গা, শোয়ার কক্ষ, পোশাক রাখার স্থান, পানি তোলার মোটর এবং শৌচাগার। ঘরের সামনে চলাচলের জন্য এবং পেছনে বসার জন্যও আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে।
খাদিজা আক্তার বলেন, ছোট ঘর হলেও তারা তিন সন্তানকে নিয়ে এখানেই থাকেন। রাতে একটি ছোট চৌকিতে সবাই মিলে ঘুমান। জায়গা কম হওয়ায় অতিরিক্ত শোয়ার ব্যবস্থা আলাদাভাবে করতে হয়।
ঘরটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। দর্শনার্থীদের ভাষ্য, নিজের চোখে না দেখলে এত ছোট জায়গায় একটি পরিবার কীভাবে বসবাস করছে, তা বিশ্বাস করা কঠিন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির নিজের কোনো থাকার জায়গা ছিল না। অনেক কষ্টের পর অল্প জায়গার মধ্যেই তারা মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে।
গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও সীমিত আয়ের কারণে শাহজালালের পক্ষে বড় জায়গা কেনা সম্ভব হয়নি। এলাকায় এক শতাংশ ডোবার জমির দামও অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে অল্প জায়গাতেই পরিবারটি তাদের স্বপ্নের ঘর তৈরি করেছে।
আরটিভি/জেএমএ



