
অপরাধ বিষয়ক ভারতীয় টিভি সিরিজ ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে আবদুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক (২৪) হয়ে গেলেন সিরিয়াল কিলার। খুন করেছেন তিন অটোরিকশাচালককে। রিমান্ডে পুলিশকে এসব জানিয়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার এই বাসিন্দা।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদুল ইসলাম সবুজ জানিয়েছেন এসব তথ্য।
আসামির বরাতে তিনি জানান, বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য কলহে হয়ে পড়েন বিষণ্ন। স্ত্রী প্রায়ই দেনমোহরের ৩০ লাখ টাকার জন্য চাপ দিতেন। এই অর্থ জোগাড়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়ার লোভ দেখিয়ে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর চালকদের নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন মানিক। এরপর সহযোগীদের নিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে মাথায় আঘাত করে তাদের হত্যা করা হতো। অটোরিকশাগুলো কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন মানিক।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, আমার ধারণা, মানিক একজন সাইকো কিলার। কিশোর চালকদের হত্যা করে সে একধরনের পৈশাচিক আনন্দও পেত।
তিনি জানালেন, গত ২৪ জুলাই নিখোঁজ হন নাঙ্গলকোটের অটোরিকশাচালক আরমান। তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে গ্রেপ্তার করা হয় মানিককে। আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হলে তিন অটোচালককে হত্যার কথা জানান আসামি।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় মো. মেহেদী (১৮) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এরপর ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। আরমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত করে পুলিশ মানিককে সহযোগীদের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের পরে উঠে আসে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, তিনটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেই অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আরটিভি/টিআর




